শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

ফটিকছড়িতে মোটরসাইকেলের দৌরাত্ম্য: অতি উৎসাহে বাড়ছে সড়ক দূর্ঘটনা

প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬ | ৯:৪৯ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ২৭ মার্চ ২০২৬ | ৯:৪৯ পূর্বাহ্ণ
ফটিকছড়িতে মোটরসাইকেলের দৌরাত্ম্য: অতি উৎসাহে বাড়ছে সড়ক দূর্ঘটনা

সাম্পান ডেস্ক:

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় দিন দিন বেড়েই চলেছে মোটরসাইকেলের সংখ্যা। প্রয়োজনের তুলনায় শখের চালক, প্রবাস ফেরত তরুণ, ভাড়ায় চালানো রাইডার ও অনভিজ্ঞ চালকদের অংশগ্রহণ বাড়ায় উপজেলার সড়কগুলো ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

স্থানীয়দের ভাষায়, ফটিকছড়ির সড়কে এখন মোটরসাইকেলের ‘অঘোষিত প্রতিযোগিতা’ চলছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, উপজেলায় মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে প্রকৃত কর্মজীবী বা নিয়মিত প্রয়োজনীয় চালকের সংখ্যা আনুমানিক ৫ শতাংশের বেশি নয়। বাকি অধিকাংশ চালক শখের বশে, বন্ধুদের সঙ্গে ঘোরাঘুরি কিংবা অস্থায়ী আয়ের উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন বাজার, ইউনিয়ন সড়ক ও গ্রামীণ এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, অনেক চালক প্রয়োজন ছাড়াই সড়কে ঘোরাফেরা করছেন। পর্যাপ্ত জ্বালানি থাকা সত্ত্বেও নতুন করে জ্বালানি নিতে দীর্ঘ সময় রাস্তায় অবস্থান করছেন তারা। এতে যানবাহনের চাপ বাড়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অতিরিক্ত গতি, এক মোটরসাইকেলে তিন থেকে চারজন আরোহী বহন এবং স্টান্টবাজি এখন নিত্যদিনের দৃশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক মোটরসাইকেলই অনুমোদনবিহীন এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চালকের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স কিংবা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম নেই।

সাম্প্রতিক কয়েকটি দুর্ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ফটিকছড়িতে সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনার বড় অংশেই কিশোর ও অনভিজ্ঞ মোটরসাইকেল চালক জড়িত।

স্থানীয়দের দাবি, উপজেলার প্রায় ৯০ শতাংশ ছোট-বড় দুর্ঘটনার সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে মোটরসাইকেল সংশ্লিষ্ট।

এদিকে ফটিকছড়ি উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ কিংবা বিআরটিএ কোনো সংস্থার কাছেই বর্তমানে উপজেলায় চলাচলরত মোটরসাইকেলের নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান নেই।

ফটিকছড়ি হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ সাহাব উদ্দিন বলেন, “উপজেলায় মোট কতটি মোটরসাইকেল চলাচল করছে তার সুনির্দিষ্ট তথ্য আমাদের কাছে নেই। তবে প্রতিদিন নতুন নতুন মোটরসাইকেল রাস্তায় নামছে, যা সড়কের ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি।”

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত এক ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি জানান, প্রায় ছয় লাখ মানুষের এই বৃহৎ উপজেলায় প্রতিদিন নতুন মোটরসাইকেল যুক্ত হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে। তাঁর অভিযোগ, অনেক সময় মোটরসাইকেল আটক করা হলেও পরে ইঙ্গিতপূর্ণভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ভাড়ায় চালিত কয়েকজন মোটরসাইকেল চালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অনেক ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে পুলিশের সাথে বিভিন্ন সমস্যা মিটিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

সচেতন মহলের মতে, মোটরসাইকেল নিবন্ধন যাচাই, লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার, ট্রাফিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত নজরদারি ছাড়া ফটিকছড়ির সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

এবিষয়ে স্থানীয়রা খুব দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।

পি/আর

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares