শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

“নিরাপদ অভিবাসনে সরকারি টিটিসি এখন সময়ের দাবি”

প্রকাশ: ৮ মে ২০২৬ | ৫:১২ অপরাহ্ণ আপডেট: ৮ মে ২০২৬ | ৫:১২ অপরাহ্ণ
“নিরাপদ অভিবাসনে সরকারি টিটিসি এখন সময়ের দাবি”

চট্টগ্রামের প্রবাসী অধ্যুষিত উপজেলা ফটিকছড়িতে একটি সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার—টিটিসি) স্থাপনের দাবি দিন দিন জোরালো হয়ে উঠছে।

 

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রবাসী পরিবার ও সচেতন নাগরিকদের মতে, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে উপজেলা পর্যায়ে একটি আধুনিক টিটিসি প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি।

 

সরেজমিনে ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফটিকছড়ি উপজেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়ন থেকেই প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক তরুণ কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত ও মালয়েশিয়ায় কর্মরত প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স স্থানীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। অথচ এত বিপুল বিদেশগামী শ্রমশক্তি থাকা সত্ত্বেও উপজেলায় এখনো কোনো সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

 

ফটিকছড়ি উপজেলা সৌদি আরব প্রবাসী ভুক্তভোগী ইমরান বলেন, সরকারি অনুমোদিত লাইসেন্সের পরীক্ষায় অংশ নিতে তাকে প্রথমে ঢাকায় যেতে হয়েছে। পরে সেখান থেকে বরিশাল টিটিসিতে পাঠানো হয়। তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে টিটিসি স্থাপন হলে এ ধরনের ভোগান্তি থেকে বিদেশগামীরা মুক্তি পেতেন।

 

বিদেশগামীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিয়ে পরীক্ষা দিয়ে সনদপত্র নিতে চট্টগ্রাম নগর, ঢাকা,বরিশাল কিংবা পাশের রাউজান উপজেলায় যেতে হচ্ছে। দূরত্ব, যাতায়াত ব্যয় ও সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেকেই প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

ফটিকছড়ি আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর বলেছেন, দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ফটিকছড়ির প্রবাসীদের কল্যাণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দিয়ে টিটিসি প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করার কথা জানান।

 

বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব (অব.) ও চট্টগ্রাম ওয়াসার সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম হোসেন বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ভাষাগত ও কারিগরি দক্ষতার অভাব বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তিনি বলেন, “প্রশিক্ষণ ছাড়া শ্রমিকেরা সাধারণ কাজে সীমাবদ্ধ থাকছেন। স্থানীয়ভাবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা গেলে দক্ষতা বাড়বে এবং উচ্চ আয়ের সুযোগ তৈরি হবে।”

 

এ বিষয়ে গণঅধিকার পরিষদের চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সাধারণ সম্পাদক মো:হাসান তারেক বলেন, যথাযথ প্রশিক্ষণ ও সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে অনেক বিদেশগামী কর্মী অতিরিক্ত ব্যয়, ভুয়া কাগজপত্র ও ভিসা জটিলতার শিকার হচ্ছেন। তিনি জানান, বিষয়টি তার দলের প্রধান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর এর নজরে আনা হবে।

 

আরএইচ

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares