নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামের আদালত প্রাঙ্গণে উগ্রবাদী ইসকন সন্ত্রাসীদের হাতে নৃশংসভাবে নিহত বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও চট্টগ্রাম কোর্টের তরুণ আইনজীবী শহীদ অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় দাখিলকৃত চার্জশিট গ্রহণ করেছে আদালত।
সোমবার (২৫ আগস্ট) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলাউদ্দীন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার দাখিল করা চার্জশিট গ্রহণযোগ্যতা শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। শুনানিতে বাদী ও শহীদ আলিফের পিতা জামাল উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করে জানান, তদন্ত রিপোর্টে সুকান্ত দত্তসহ কয়েকজনের সম্পৃক্ততা পাওয়া সত্ত্বেও অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছিল। তবে আদালত তাকে আসামি হিসেবেই অন্তর্ভুক্ত রাখেন। উল্লেখ্য, সুকান্ত দত্ত অস্ত্র, মাদক, ডাকাতিসহ একাধিক মামলার আসামি।
আদালত সুকান্ত দত্তসহ মোট ৩৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেন এবং পলাতক ১৮ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। বর্তমানে ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাশসহ ২০ আসামি গ্রেপ্তার অবস্থায় কারাগারে রয়েছেন।
এর আগে মামলার এজাহারে ৩১ জনকে আসামি করা হলেও তদন্তে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় গগন দাশ, বিশাল দাশ ও রাজকাপুর মেথরকে অব্যাহতির সুপারিশ করেন তদন্ত কর্মকর্তা। অন্যদিকে নতুন করে চিন্ময় দাশসহ আরও ১০ জনকে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
চার্জশিটে যাদের নাম রয়েছে তাদের মধ্যে আছেন— চন্দন দাশ মেথর, রিপন দাশ, রাজীব ভট্টাচার্য্য, শুভ কান্তি দাশ, আমান দাশ, বুঞ্জা, রনব, বিধান, বিকাশ, রমিত প্রকাশ দাস, রুমিত দাস, নয়ন দাশ, ওমকার দাশ, লালা দাশ, সামীর, সোহেল দাশ, শিব কুমার, বিগলাল, পরাশ, গণেশ, ওম দাস, পপি, অজয়, দেবী চরণ, দেব, জয়, লালা মেথর, দুর্লভ দাশ, সুমিত দাশ, সনু দাস, সকু দাশ, ভাজন, আশিক, শাহিত, শিবা দাস ও দ্বীপ দাস।
গত বছরের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের মধ্যে তরুণ আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে তাঁর বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ছাড়া পুলিশের ওপর হামলা, কাজে বাধা, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও পাঁচটি মামলা দায়ের হয়।
এসএস
