শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

শুধু সংবিধান দিয়ে দেশ চলে না, ডকট্রিন অব নেসেসিটি মেনে নিন- মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম

প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬ | ১০:০৮ অপরাহ্ণ আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২৬ | ১০:০৮ অপরাহ্ণ
শুধু সংবিধান দিয়ে দেশ চলে না, ডকট্রিন অব নেসেসিটি মেনে নিন- মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম

সাম্পান ডেস্ক:

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ইতিহাসের যুগসন্ধিক্ষণে পরিচালিত অভিযান, বিক্ষোভ, অভ্যুত্থান, বিপ্লব, গণভোট ইত্যাদি ডকট্রিন অব নেসেসিটি।

শুধু সংবিধান দিয়ে দেশ চলে না; ডকট্রিন অব নেসেসিটি মেনে নিতে হয়।

১৯৭০ নির্বাচনের ম্যান্ডেট অস্বীকার করায় মহান মুক্তিযুদ্ধ সে সময়ের ডকট্রিন অব নেসেসিটি ছিলো যার মাধ্যমে লাল-সবুজের পতাকা পেয়েছি আমরা। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আমরা চির কৃতজ্ঞ। দেড়যুগের ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে চব্বিশের রক্তক্ষয়ী বিপ্লবও বর্তমান সময়ের ডকট্রিন অব নেসেসিটি। এটার মাধ্যমেই ‘দিল্লি না ঢাকা: ঢাকা ঢাকা’ শ্লোগান প্রতিষ্ঠিত হয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সমুন্নত হয়েছে। ১৯৭২ সংবিধানকে সত্যায়ন (authentication) করতে ১৯৭০ নির্বাচনের ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে ‘গণপরিষদ’ গঠন করা হয়েছিল। অনুরূপভাবে জুলাই সনদকে আইনী মর্যাদা দিতে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন করা হয়েছে। বিএনপির সংসদ সদস্যরা এ পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিয়ে জুলাই শহীদদের অমর্যাদা করেছেন, গণভোটের মর্যাদাকে অস্বীকার করেছেন। পরবর্তী সংসদ অধিবেশনেই এর সমাধান করতে হবে; নতুবা আন্দোলনের বিকল্প থাকবে না।

 

আজ (বৃহস্পতিবার) মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগরীর জামায়াতের মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

তিনি বলেন, বাকশালী শাসন উৎখাত করতে ১৫ আগষ্ট বিপ্লব, ইসলামী গণপ্রজাতন্ত্র ঘোষনা দিয়ে খোন্দকার মুশতাকের তিরাশি দিনের শাসন, সিপাহী-জনতার ‘বাংলাদেশ-জিন্দাবাদ’ এবং ‘নারায়ে তাকবির- আল্লাহু আকবর’ শ্লোগানের ভিত্তিতে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর শহীদ জিয়ার ক্ষমতা লাভ, ১৯৭৭ সালে গণভোটের মাধ্যমে জিয়ার শাসনের প্রতি জনগণের ম্যান্ডেট- এসবই ছিলো ডকট্রিন অব নেসেসিটি। আজকের গণভোট অস্বীকার করলে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার শাসনই অবৈধ হয়ে যায়। কাজেই বাস্তবতা মেনে নিয়ে জুলাই সনদের ভিত্তিতেই দেশ পরিচালনা করুন।

 

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা হাজারো বছরের আন্দোলন, সংগ্রামের ঐতিহ্যের উপর ভিত্তি করেই আজকের পর্যায়ে এসেছে। রাজা দাহিরের আমলে দস্যুবৃত্তির বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে মুহাম্মদ বিন কাসিমের অভিযান, লক্ষণ সেনের বিরুদ্ধে ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বখতিয়ার খলজির অভিযান, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ষড়যন্ত্রে পা দিয়ে পলাশীর বিপর্যয়ে স্বাধীনতা বিপন্ন হওয়া, বালাকোট, ফরায়েজি, তিতুমীরসহ ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ, ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন, ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবসহ অনেক ধাপ পেরিয়ে এসেছিল ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ থেকে স্বাধীনতা। সেই সাতচল্লিশের পূর্ব পাকিস্তানের সীমানাই আজকের স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৫ সালের যুদ্ধ, ১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের নির্বাচনসহ বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে করতেই মহান যুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে একাত্তরে আমারা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি। আন্দোলন, সংগ্রাম, ঐতিহ্যের এ ধারাবাহিকতা ধারণ করেই নতুন বাংলাদেশ গঠনের শপথ নিতে হবে।

 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহর সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য রাখেন বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুছ, মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, ডা.এ কে এম ফজলুল হক, ডা. মুহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য আবু হেনা মোস্তফা কামাল, আমির হোসাইন, অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুন্নবী, অধ্যক্ষ মাওলানা জাকের হোসাইন, ড.আ ম ম মাসরুর হোসাইন প্রমুখ।

 

এতে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য হামেদ হাসান ইলাহী, ফখরে জাহান সিরাজী, ফারুকে আজম, বায়েজিদ থানা থানা আমীর জাকের হোসাইন, পাচঁলাইশ মাহবুবুল হাসান রুমী, চকবাজার আহমদ খালেদুল আনোয়ার ও ইন্জিনিয়ার রুহুল আমিন প্রমুখ।

পি/আর

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares