নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম নগরে সকাল থেকে অতি ভারি বর্ষণে হাটুঁসমান জলাবদ্ধতায় নগবাসীর দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। সকাল থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে কোথাও কোথাও হাঁটুসমান আবার কোথাও কোমর সমান পানি। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। এদিকে দেশের অভ্যন্তরে বজ্রমেঘ সৃষ্টি অব্যাহত থাকায় চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী বর্ষণের তথ্য দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আবহাওয়া অফিস জানায়, কালবৈশাখী ঝড়ের কারণেই এ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তবে আগামী দিনগুলোতেও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে চট্টগ্রাম নগরে জলাবদ্ধতা এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের শঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে নগরের নিচু এলাকয় তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা।

নগরের মুরাদপুর, জিইসি মোড়, কাতালগঞ্জে ছিল হাঁটু সমান পানি। প্রবর্তক মোড়ে কোমর সমান পানি। পথচারীদের পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, খাল-নালা ভরাট, অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং ময়লা-আবর্জনায় ড্রেন আটকে থাকায় জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ সমস্যা থেকে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
কুতুবদিয়া থেকে আসা মো. মোর্শেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ”আমার আব্বার চিকিৎসার জন্যে এসেছি এখানে, এখানে অনেক পানি, ডুবে যাওয়ার উপক্রম। কীভাবে ফিরে যাবো বুঝে উঠতে পারছি না”।

স্কুলছাত্র ফাহমিদ বলেন, “আমি বাংরাদেশ সরকারের কাছে আবেদন জানাবো প্রবর্তক মোড়ের জন্য যেনো একটি নৌকা বা স্পীড বোট বরাদ্দ থাকে। কারণ এখানে যে অবস্থা নৌকা বা স্পীড বোট ছাড়া পার হওয়া সম্ভব না”।
নগরের কাতালগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা অভি জানান, বৃষ্টির কারণে রাস্তায় গণপরিবহন কিছুটা কম। ফলে স্বল্প দূরত্বে যেতেও রিকশায় বেশি ভাড়া দিতে হচ্ছে। বৃষ্টি হওয়ায় পানিতে রাস্তা-ফুটপাত একাকার হয়ে গেছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম বলেন, ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ৯৬ ঘণ্টা ভারী বৃষ্টিপাতের শঙ্কা রয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এসএস
