সাম্পান ডেস্ক:
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতে ইসলামীর শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা জামাল হোসাইনের অক্সিজেন উত্তরা আবাসিক এলাকার বাসভবনে গভীর রাতে সংঘটিত হামলা, ভাঙচুর ও নারী সদস্যদের হয়রানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জেলা জামায়াত। একইসঙ্গে পরিবারটিকে নিয়মিত হুমকি-ধমকি প্রদানের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলটির নেতৃবৃন্দ।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) এক যৌথ বিবৃতিতে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের আমির জনাব আলাউদ্দিন সিকদার এবং সেক্রেটারি জনাব আব্দুল জব্বার এই ঘটনার নিন্দা জানান।
নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন, আসামি গ্রেফতারের নামে বায়েজিদ থানা পুলিশের উপস্থিতিতে একদল অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসী গভীর রাতে মাওলানা জামাল হোসাইনের বাসায় প্রবেশ করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা বাসার ভেতরে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং আসবাবপত্র ভাঙচুর চালায়। বিশেষ করে পরিবারের নারী সদস্যদের সঙ্গে অসদাচরণ ও হয়রানির ঘটনাকে নেতৃবৃন্দ অত্যন্ত নিন্দনীয় ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল বলে আখ্যায়িত করেছেন। এছাড়া ঘটনার পরবর্তী সময় থেকেই পরিবারটিকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতারের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাংবিধানিক দায়িত্ব। কিন্তু উক্ত ঘটনায় তার সুস্পষ্ট ব্যত্যয় ঘটেছে। বায়েজিদ থানা পুলিশের উপস্থিতিতে যেভাবে এই ‘মব সৃষ্টি’ করা হয়েছে এবং বহিরাগত মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের আক্রমণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
জামায়াত নেতৃবৃন্দ আরও বলেন , মাওলানা জামাল হোসাইনের ছোট পুত্র সাদিক আব্দুল্লাহ, যিনি চব্বিশের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অগ্রভাগে ছিলেন, তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর পরিকল্পনা থেকেই এই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়, এ ধরনের অন্যায়, অবৈধ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। জামায়াত নেতৃবৃন্দ জনগণের জানমাল, সম্মান ও নিরাপত্তা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসন তাদের দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক ভূমিকা নিশ্চিত করবে।
পি/আর
