সাম্পান ডেস্ক:
চট্টগ্রামে রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান কোরাল রীফ প্রপার্টিজের বিরুদ্ধে নকশা লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণ, একই ফ্ল্যাট একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি, জমির মালিককে প্রাপ্য ফ্ল্যাট বুঝিয়ে না দেওয়া, স্বাক্ষর জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে করা মামলায় পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে আগ্রাবাদ এলাকায় ১৫ তলা ভবন নির্মাণ করে প্রতিষ্ঠানটি। চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না করে দীর্ঘ ৮ বছর অতিবাহিত করা হয়। তিন বছরের মধ্যে কাজ শেষ না হলে জমির মালিককে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা থাকলেও তা পরিশোধ করা হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, কোরাল রীফ প্রপার্টিজ জমির মালিকদের সঙ্গে ৫০:৫০ ভিত্তিতে ফ্ল্যাট ভাগাভাগির চুক্তি করলেও তাদের প্রাপ্য ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেয়নি। বরং একই ফ্ল্যাট একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয়েছে। পাশাপাশি জমির মালিকদের স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে চুক্তিপত্র তৈরি করে তৃতীয় পক্ষের কাছে ফ্ল্যাট হস্তান্তরের অভিযোগও রয়েছে।
ভুক্তভোগী জমির মালিক সামিউল খান বাদী হয়ে মামলা করলে তদন্তে উঠে আসে, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মো. সাইফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ মহসীন উদ্দিন রুবেলের দাখিল করা প্রতিবেদনে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
তদন্তে আরও জানা যায়, ২০১২ সালের মূল চুক্তির পাশাপাশি ২০১৯ ও ২০২৩ সালে দুটি সম্পূরক চুক্তি করা হলেও জমির মালিকদের সম্মতি ছাড়াই তাদের নাম ব্যবহার করে ফ্ল্যাট হস্তান্তর অব্যাহত রাখা হয়। এমনকি জমির মালিকদের প্রাপ্য অংশও বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানালে জমির মালিক ও তার পরিবারের সদস্যদের মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। এতে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে কোরাল রীফ প্রপার্টিজের পক্ষ থেকে জমির মালিকদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ আনা হলেও তদন্তে তার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। বরং ক্ষতিপূরণের অর্থ নিয়ে গড়িমসির প্রমাণ মিলেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কোরাল রীফ প্রপার্টিজ শুধু চট্টগ্রাম নয়, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্টদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলেও দাবি করেছেন তারা।
পি/আর
