বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

দীর্ঘ দুই দশক পর গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার তারেক রহমানের

প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৫ | ২:০২ অপরাহ্ণ আপডেট: ৬ অক্টোবর ২০২৫ | ২:০২ অপরাহ্ণ
দীর্ঘ দুই দশক পর গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার তারেক রহমানের
সাম্পান ডেস্ক
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর কোনো গণমাধ্যমে মুখোমুখি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সাক্ষাৎকারে তিনি দেশে ফেরা, নির্বাচন, রাজনৈতিক ভবিষ্যৎসহ নানা ইস্যুতে খোলামেলা কথা বলেছেন। সোমবার (৬ অক্টোবর) সকালে এই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করেছে বিবিসি বাংলা।
বিবিসি বাংলার সম্পাদক মীর সাব্বির ও সিনিয়র সাংবাদিক কাদির কল্লোলকে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান জানিয়েছেন, তিনি খুব শিগগিরই দেশে ফিরবেন।
দেশে ফেরার পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কিছু সংগত কারণে হয়তো ফেরাটা হয়ে উঠেনি এখনো। তবে সময় তো চলে এসেছে মনে হয়। ইনশাআল্লাহ দ্রুতই ফিরে আসব।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নে, নির্বাচনের আগে দেশে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে কিনা—এর জবাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘রাজনীতি যখন করি, আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে স্বাভাবিক। নির্বাচনের সাথে রাজনৈতিক দলের একটি ওতপ্রোত সম্পর্ক। যেখানে প্রত্যাশিত, জনগণের প্রত্যাশিত নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচনের সময় দূরে থাকব কীভাবে? আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা, ইচ্ছা ও আগ্রহ রাখব জনগণের মাঝেই থাকতে, ইনশাআল্লাহ।’
দেশে ফেরার বিষয়ে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন রকম শঙ্কার কথা আমরা অনেক সময় বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে শুনেছি। এমনকি সরকারের অনেক ব্যক্তির কাছ থেকেও বিভিন্ন সময়ে নানা শঙ্কার কথা প্রকাশিত হয়েছে।’
সাক্ষাৎকারের শুরুতে তিনি বলেন, ‘সময় তো স্বাভাবিকভাবেই ব্যস্ত যাচ্ছে। ফিজিক্যালি হয়তো আমি এই দেশে নেই, কিন্তু মন-মানসিকতা, অনুভূতি—সবকিছু মিলিয়ে আমি গত ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশেই রয়ে গেছি।’
দীর্ঘদিন গণমাধ্যমে কথা না বলার কারণ জানতে চাইলে তারেক রহমান বলেন,  ‘আসলে আমি কথা ঠিকই বলেছি। দলের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই আমি নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছি। তবে বিগত স্বৈরাচার সরকারের সময় আদালতের আদেশে আমার কথা বলার অধিকারই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আমি যদি কোনো কিছু বলতে চাইতাম, গণমাধ্যমের ইচ্ছা থাকলেও সেটি প্রকাশ করতে পারত না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি একবার প্রেস ক্লাবে কথা বলেছিলাম। পরদিন তখনকার প্রেস ক্লাব কর্তৃপক্ষ মিটিং ডেকে সিদ্ধান্ত নেয়, ‘আইনের দৃষ্টিতে ফেরারি’ কাউকে তারা কথা বলতে দেবে না। এভাবেই আমার কণ্ঠ বন্ধ রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘আমি থেমে থাকিনি। সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্ন পন্থায় আমি মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছি, এবং ইনশাআল্লাহ আমি পৌঁছেছি। গণমাধ্যমে কথা না বলেছি—এটা সঠিক নয়; বরং অনেক সময় গণমাধ্যম তা প্রচার করতে পারেনি।’
দীর্ঘ প্রবাস জীবনের পর তারেক রহমানের এই সাক্ষাৎকারকে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিএনপি মহলে ধারণা করা হচ্ছে, এই সাক্ষাৎকার হয়তো তার দেশে ফেরার প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এসএস

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares