সাম্পান ডেস্ক
চট্টগ্রামের রাউজানের বাগোয়ান ইউনিয়নের ব্যবসায়ী ও বিএনপি কর্মী আবদুল হাকিম হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে নোয়াপাড়া এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে থানা থেকে লুণ্ঠিত চাইনিজ রাইফেলসহ বিপুল পরিমাণ দেশি–বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।
রোববার (৯ নভেম্বর) গভীর রাত থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত চৌধুরীহাট সংলগ্ন আইয়ুব আলী সওদাগরের বাড়িতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ জানায়, আটক সন্ত্রাসীদের স্বীকারোক্তিতে এই বাড়ি ও বাড়ির পেছনের পুকুরে অস্ত্র লুকিয়ে রাখার তথ্য পাওয়া যায়। পুকুরের পানি সেচে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার করা হয় একটি চাইনিজ রাইফেল ও একটি শটগান, যার মধ্যে গুলি লোড অবস্থায় ছিল। এছাড়া বাড়ি থেকে চারটি বিদেশি পিস্তল ও রিভলবার, ৪২ রাউন্ড রাইফেল গুলি, ১৯ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ১৬ রাউন্ড শটগানের কার্তুজ, সাতটি খালি ম্যাগজিন, একটি রকেট ফ্লেয়ার, দুটি রামদা, ৫০ পিস ইয়াবা, ২৫০ গ্রাম গাঁজা এবং নগদ ৯৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এ সময় বাড়ির দুই যুবক— মো. সাকিব (২০) ও মো. শাহেদ (২৫) —কে আটক করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, উদ্ধার করা চাইনিজ রাইফেলটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাউজান থানা থেকে লুণ্ঠিত অস্ত্রের অংশ। আবদুল হাকিম হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রগুলোর তথ্য রিমান্ডে থাকা আসামিদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, হাকিম হত্যায় মোট ১৫ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন সরাসরি কিলিং মিশনে অংশ নেয় এবং একজন মোটরসাইকেলে গাড়ি অনুসরণ করে যোগাযোগ রক্ষা করে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, রাউজানে টার্গেট কিলিংয়ে অন্তত ছয়টি সক্রিয় গ্রুপ জড়িত এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। আধিপত্য, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব, মাদক ও পারিবারিক বিরোধকে এসব হত্যাকাণ্ডের প্রধান কারণ হিসেবে দেখছে পুলিশ।
পুলিশ সুপার বলেন, রাউজানে সংগঠিত হত্যাকাণ্ডগুলো আমরা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি। জড়িতদের কেউই ছাড় পাবে না।
এসএস
