নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, বাংলাদেশের মাটিতে আওয়ামী লীগ স্টাইলে কোনো নির্বাচন আর হতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের দৃশ্যমান বিচার শেষে সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন দিতে হবে।

শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বাদ আসর আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের উত্তর গেটে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জামায়াত ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এ কর্মসূচি থেকে ৫ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।
জামায়াতের ৫ দফা দাবি
১. জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন।
২. সংসদের উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতির নির্বাচন চালু।
৩. অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত।
৪. ফ্যাসিস্ট সরকারের জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির দৃশ্যমান বিচার।
৫. স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ।
রফিকুল ইসলাম খান বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ফ্যাসিবাদী শক্তির বিচার করবে, পাচারকৃত টাকা ফেরত আনবে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করবে। কিন্তু সরকারের ভেতরে থাকা কিছু ব্যক্তি দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, পিআর পদ্ধতি নিয়ে গণভোট আয়োজন করা হোক—জনগণ যেটি মেনে নেবে, জামায়াতও সেটি মেনে নেবে।
সমাবেশের অন্যান্য বক্তাদের বক্তব্য
কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, জামায়াতই সবার আগে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছে এবং প্রার্থী ঘোষণা করেছে। যারা পিআর পদ্ধতির বিরোধিতা করছে তারাই নির্বাচন পিছাতে চায়।
চট্টগ্রাম মহানগরীর ভারপ্রাপ্ত আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, মুক্তিযুদ্ধের নামে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করা হয়েছিল। জুলাই সনদের আইনি মর্যাদা প্রদান করে পিআর ভিত্তিক নির্বাচনই গণতন্ত্রের পথ প্রশস্ত করবে।
নগর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নুরুল আমিন বলেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি না হলে সংস্কারের কোনো ভিত্তি থাকবে না। জনগণ রাজপথে থেকে দাবি আদায় করবে।
মিছিল ও সমাবেশে উপস্থিতি
সমাবেশ শেষে বিক্ষোভকারীরা গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে নিউমার্কেট মোড়ে গিয়ে পুনরায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ করে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা।

