চবি প্রতিনিধি
অনেক দিন ধরে নিস্তব্ধ ছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) রাজনৈতিক আঙিনা। শিক্ষার্থীদের আশা-আকাঙ্ক্ষার মঞ্চ—চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)—ছিল কার্যত অচলাবস্থায়। তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আবারও আলোচনায় এসেছে চাকসু নির্বাচন। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে।
শাটল ট্রেন থেকে ক্যান্টিন, লাইব্রেরি, আবাসিক হল—সব জায়গায় এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে: কে হবেন শিক্ষার্থীদের পরবর্তী প্রতিনিধি? কে ধরবেন নেতৃত্বের হাল?
চাকসু নির্বাচনে বেশ কয়েকটি প্যানেল, জোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর তথ্য ইতোমধ্যে উঠে এসেছে। জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনীতিতে নতুন মোড় এসেছে। এই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা অনেক নেতাই এবার নির্বাচনের মূল আলোচনায়।
এবার দেখে নেওয়া যাক, কোন প্যানেল থেকে কারা আলোচনায় রয়েছেন। ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্যানেল থেকে আলোচনায় আছেন ইব্রাহিম হোসেন রনি এবং সাঈদ বিন হাবিব। জুলাই আন্দোলনে তাদের সক্রিয়তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। তারা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্যানেল গঠনের পরিকল্পনা করছেন, যেখানে নারী ও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরাও প্রতিনিধিত্ব করবে।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছেন। তার পাশাপাশি আলোচনায় আছেন সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় এবং নুজহাত জাহান।
এছাড়া জুলাই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া একদল শিক্ষার্থী ও সামাজিক অ্যাক্টিভিস্ট মিলে স্বতন্ত্র প্যানেল গঠন করছেন। মাহফুজুর রহমান এবং রশিদ দিনার সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায়।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট এবার জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করছে। ভিপি পদে লড়বেন ঋজু লক্ষী অবরোধ এবং জিএস পদে থাকবেন ইফাজ উদ্দিন আহমেদ।
গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের মুনতাসির মাহমুদ, ছাত্র অধিকার পরিষদের তামজিদ উদ্দিন এবং ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের আবদুর রহমান রবিন—এঁরাও নিজেদের প্যানেল থেকে নির্বাচনে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে মনোনয়ন ফরম বিতরণ। চলবে ১৬ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার পর্যন্ত। এরপর যাচাই-বাছাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। শিক্ষার্থীদের নতুন নেতৃত্ব কে হবে, তা জানতে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে আগামী ১২ অক্টোবর পর্যন্ত। কে জেতে আর কে হারে, সে উত্তর দেবে ব্যালট বাক্স।
সবার চোখ এখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দিকে। তারা কি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করতে পারবে? আর শিক্ষার্থীরাই বা কাকে বেছে নেবে তাদের আগামী দিনের নেতৃত্ব হিসেবে? সময়ই বলে দেবে। তবে, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর চবি ক্যাম্পাসে যে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে, তা অনস্বীকার্য।
এসএস
