বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২

বর্গা নেওয়া গরু হারানোর পরের দিন নিজের জীবন প্রদীপই হারিয়ে গেলো ফরিদের

প্রকাশ: ৬ মার্চ ২০২৩ | ৬:৩৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ৬ মার্চ ২০২৩ | ৬:৩৪ পূর্বাহ্ণ
বর্গা নেওয়া গরু হারানোর পরের দিন নিজের জীবন প্রদীপই হারিয়ে গেলো ফরিদের

জালাল ইবনে জহুর

সীতাকুন্ডের সীমা অক্সিজেন প্লান্টের গাড়ি চালক ফরিদুল ইসলাম। সংসারের খরচ মেটাতে এই চাকরির পাশাপাশি বর্গা নিয়ে বাড়িতে গরু পালন করতেন তিনি।এরমধ্যে একটি গরু শুক্রবার সকালে হারিয়ে যায়।সারাদিন এদিকে সেদিক খোঁজাখুজি করেও এই গরুর সন্ধান পাননি।এটা নিয়ে মন খারাপ ছিলো তার।স্ত্রীকে এটা নিয়ে অনেক বকাঝকাও করেছিলেন।শনিবার সকালে ডিউটিতে যাওয়ার আগেও বিভিন্ন জায়গায় নিয়েছেন খোঁজখবর ।সন্ধ্যায় বাড়িতে ফিরে আবার গরু খোঁজতে বের হবেন বলে ফোনে স্ত্রীকে জানিয়েছিলেন।তবে তার আর সেই ফেরা হয়নি।সর্বনাশা বিষ্ফোরণে জীবন প্রদীপটাই হারিয়ে গেলো তার।

নিহত ফরিদুল ইসলাম ফরিদ ( ৩২) সীতাকুণ্ড উপজেলার মধ্যম সলিমপুর ইউনিয়ননের ৪ নং ওয়ার্ডের আবুল বশরের পুত্র।

জানা যায়,স্ত্রী ও তিন ছেলেসহ ৬ জনের সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ফরিদুল।সহজ সরল ও কর্মঠ ফরিদুল চাকরির পাশাপাশি গবাদিপশু ( গরু) বর্গা নিয়ে সংসার চালাতো।চাকরি থেকে ফিরেই পরিবার ও গবাদি পশুগুলোকে নিয়ে সময় কাটতো তার।বিষ্ফোরণে ফরিদুলের হাত পা উড়ে যায়।বের হয়ে যায় নাড়িভুঁড়ি। দেখলে বুঝার বাকি নেই এটা সেই হাসিখুশি মুখের প্রাণবন্ত ফরিদুল।

চমেক হাসপাতালের মর্গের সামনে কাঁদতে কাঁদতে ফরিদের স্ত্রী রাশেদা আক্তার সাম্পান নিউজকে বলেন, আমার স্বামী সংসার ছাড়া কিছুই বুঝতেন না।আমরা একটু ভালো থাকার জন্য চাকরির পাশাপাশি মানুষ থেকে বর্গা নিয়ে গরু পালতেন।ফ্যাক্টরি থেকে এসেই গরু গুলোকে খাবার দিতেন, যত্ন করতেন।খুব বেশি পরিশ্রম করতেন তিনি।সব সময় হাসিখুশি থাকতো।আজকে এই মানুষটাকে আমিই চিনতেছি না।

রাশেদা বলেন,’আমার এখন সব শেষ। আমার জন্য ‘কি আনতে হবে’ এখন কে বলবে। কে বলবে ছেলেকে বড় ইঞ্চিনিয়ার৷ বানাবো।আমরা এখন যাবো কোথায়। আল্লাহা কেন আমাদেরকে এমন পরীক্ষায় ফেললেন।’

প্রসঙ্গত, শনিবার (৪ মার্চ) সীতাকুণ্ডের সীমা অক্সিজেন প্ল্যান্টে ভয়াবহ বিষ্ফোরণ ঘটে। দুর্ঘটনায় মোট ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে । এছাড়া আহত ২০ জন এখন চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।এদের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares