বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

জমজমাট প্রচারণা, ভোটারদের দ্বারে দ্বারে প্রার্থীরা

প্রকাশ: ২ মার্চ ২০২৩ | ৬:৪০ অপরাহ্ণ আপডেট: ৩ মার্চ ২০২৩ | ৬:২৮ অপরাহ্ণ
জমজমাট প্রচারণা, ভোটারদের দ্বারে দ্বারে প্রার্থীরা

সাম্পান ডেস্ক

আগামী ১৬ মার্চ অনুষ্ঠিত হচ্ছে  চট্টগ্রামের  ফটিকছড়ি উপজেলার অন্তর্গত নাজিরহাট পৌরসভার নির্বাচন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি  দুপুরে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হলেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা  মাসখানেক  আগে থেকেই চালিয়ে আসছিলেন প্রচারণা। প্রার্থী ও তাদের অনুসারীদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো পৌর এলাকা।গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও পথ সভার মাধ্যমে  তারা ভোটারদের  দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছেন।আর দিচ্ছেন নানা ধরনের আশ্বাস।

নির্বাচনে মেয়র – কাউন্সিলর  মিলিয়ে ১০ টি পদে ৫৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরমধ্যে মেয়র পদে ভোটের লড়াইয়ে আছেন  ৫ জন প্রার্থী। তারা হলেন আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের  প্রার্থী একে জাহেদ চৌধুরী, জগ মার্কা প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী এডভোকেট ইসমাইল গণি, নারিকেল গাছ প্রতীকে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন চৌধুরী , আওয়ামী লীগের দুই বিদ্রোহী প্রার্থী মোবাইল প্রতীকে  আনোয়ার পাশা, চামচ প্রতীকে  প্রবাসী জাহাঙ্গীর চৌধুরী।

জানা যায়, নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে ডজন খানেক নেতাকর্মী মেয়র পদে মনোনয়ন পত্র কিনেন।তবে শেষ পর্যন্ত নৌকার  প্রতীক পান সাবেক ছাত্রনেতা ও কলামিস্ট এ কে জাহেদ চৌধুরী। দলীয় পদ পদবীর বাইরেও সজ্জন  ব্যক্তি বলে পরিচিত জাহেদ চৌধুরীর এলাকায়  আছে নিজস্ব একটি অবস্থান। তবে বিএনপি – জামায়াত ও হেফাজত অধ্যুষিত এলাকা বলে পরিচিত নাজিরহাটে  পূর্বসূরিদের মতো তাঁর জন্যও  নির্বাচনী বৈতরণী পার করা কঠিন হবে।এছাড়া আছে   দলের  দুই বিদ্রোহী প্রার্থী। এরমধ্যে  দলের শক্তিশালী বিদ্রোহী প্রার্থী   দানবীর আনোয়ার পাশার কারণে তাকে সবচেয়ে বেশি বেগ পোহাতে হবে। প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার পাশার  পক্ষে  নাজিরহাটের বাসিন্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা তৌহিদুল আলম বাবুর অনুসারীদের একটি অংশের পরোক্ষ সমর্থন রয়েছে।গতবারের  পৌরসভা নির্বাচনেও তৌহিদ বাবুর অনুসারীরা নৌকার প্রার্থী মুজিবুল হকের বিরুদ্ধে গিয়ে পাশার পক্ষে কাজ করেছিল।

এই নির্বাচন নৌকার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন  জগ মার্কা প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী  এডভোকেট ইসমাইল গনী। সৎ ও নীতিবান বলে পরিচিত এই তরুণ আইনজীবী  অল্প দিনেই  চষে বেড়িয়েছেন পৌরসভার অলি গলি।বর্তমানে কোন রাজনীতিতে জড়িত না থাকলেও একসময়  শিবিরের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি।যে কারণে স্থানীয় জামায়াত শিবির ও বিএনপি সমর্থকদের সমর্থন পাচ্ছেন তিনি।এছাড়া নিজে কওমী ঘরনার  হওয়ায়  এবং   বাকি ৪ মেয়র প্রার্থী তরিকতপন্থী হওয়ায়   কওমী মাদ্রাসা কেন্দ্রীক হেফাজত সমর্থকদের বড় অংশের ভোট  তার পক্ষে যাওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।এছাড়া তিনি পৌরসভার সুয়াবিল অংশের বাসিন্দা। এই অংশে মাত্র দুইজন মেয়র প্রার্থী। আর  আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী  প্রার্থী প্রবাসী  জাহাঙ্গীর চৌধুরীর তেমন পরিচিতি নেই এলাকায়। যে কারণে আঞ্চলিকতার কারণে সুয়াবিল অংশের  ভোট ইসমাইল গনীর পক্ষে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বেশি।আর দৌলতপুর অংশে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী একে জাহেদ চৌধুরীসহ ৩ জনের বাড়ি।সে কারণে এখানকার ভোট এই ৩ জনে বিভক্ত হয়ে সুয়াবিলের  ইসমাইলের ভাগ্য খোলার সম্ভাবনা আছে।

  

এদিকে  বর্তমান সরকারের অধীনে কোন নির্বাচন না করার ঘোষণা  দেওয়ায় মেয়র পদে প্রার্থী দেননি বিএনপি। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন করছেন  পৌরসভা বিএনপির সদস্য ও ধনাঢ্য ব্যবসায়ী  নাসির উদ্দিন চৌধুরী ।দলীয় কার্যক্রমে  তেমন  তাকে দেখা না গেলেও ভোটের বৈতরণী পার হতে  নিজেকে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী বলেই দাবি করছেন স্থানীয় ঝংকার সিনেমা হলের মালিক এই ব্যবসায়ী নেতা।যদিও উপজেলা ও জেলা বিএনপির দাবি নাজিরহাট পৌরসভা নির্বাচনে তাদের কোন প্রার্থী নেই।

এই বিষয়ে  উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফটিকছড়ি আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী কর্নেল ( অব) আজিমুল্লাহ বাহার চৌধুরী সাম্পান নিউজকে  বলেন,’আমাদের হাইকমান্ডের  স্পষ্ট কথা হচ্ছে এই সরকারের অধীনে কোন নির্বাচনে না যাওয়া। কাজেই এই পৌরসভা নির্বাচনেও আমাদের কোন প্রার্থী নেই,আমাদের সমর্থিতও কোন প্রার্থী নেই।আর  নাসির সাহেব  বিএনপি করেন, পৌর আহবায়ক কমিটির সদস্য পদেও আছেন।এক্ষেত্রে দল করতে  হলে  উনাকে দলের সিদ্ধান্ত মানতে হবে।উনি যদি দলের সিদ্ধান্ত না মেনে  নির্বাচন করেন তাহলে আমরা শীগ্রই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিবো।’

একই কথা বললেন  চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক ও ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ সালাহ উদ্দিন।তিনি  বলেন,  আমাদের নেতা তারেক রহমানের স্পষ্ট সিদ্ধান্ত হচ্ছে শেখ হাসিনার অধীনে কোন নির্বাচনে আমরা অংশগ্রহণ করবো না।কাজেই এই নির্বাচনে মেয়র বা অন্য কোন পদেই আমাদের  প্রার্থী নেই।এই বিষয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার কোন সুযোগ নেই।আর কেউ যদি ছলচাতুরী করে  দলকে  ব্যবহার করে  ফায়দা নিতে চায়,তাহলে দল অবশ্যই ব্যবস্থা  নেবেন।এই নির্বাচনে আমাদের কেউ অংশগ্রহণ করা মানে হচ্ছে, এই অবৈধ সরকার ও তাদের নির্বাচন ব্যবস্থাকে বৈধতা দেওয়া।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা অরুণ  উদয় ত্রিপুরা বলেন, সবার সহযোগিতা নিয়ে আমরা একটা শান্তিপূর্ণ ও অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে চাই।প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া পর্যন্ত কোন ধরণের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। আশা করছি এই ধারা শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

প্রসঙ্গত, এই নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪৪ হাজার ৭ শত ৮৬ জন।এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ২৩ হাজার ৯ শত ৩০ জন  ও নারী ভোটার ২০ হাজার ৮ শত ৫৬ জন।ইভিএম পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে মেয়র পদ ছাড়াও  সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৮ জন এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৪১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সূত্র: মানবজমিন






সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares