বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

শান্তশিষ্ট আরিফের এই পরিণতি মানতে পারছেন না কেউ

প্রকাশ: ৭ জানুয়ারি ২০২৩ | ৫:৫৬ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ৭ জানুয়ারি ২০২৩ | ৫:৫৯ পূর্বাহ্ণ
শান্তশিষ্ট আরিফের এই পরিণতি মানতে পারছেন না কেউ

নিজস্ব প্রতিবেদক

‘ছোট কাল থেকেই খুব শান্তশিষ্ট ছিলো আরিফ। বিশেষ করে ধর্মীয় বিধিবিধানে খুব আন্তরিক ছিলো সে।দেশে থাকার সময় কারও সাথে কোন ঝামেলায় জড়ায়নি। বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান হওয়ায় খুব আদরের হওয়ার পরও খুব বিনয়ী স্বভাবের ছিলো।কারও সাথে উচ্চ বাক্যেও কথা বলেনি।আর তাকেই নাকি হাতে একটি চাকু থাকার অপরাধে আমেরিকার পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে।এটা আমরা কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছি না।’

যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে পুলিশের গুলিতে নিহত বাংলাদেশী তরুণ সৈয়দ আরিফ ফয়সল প্রিন্সের মামা আইয়ুব চৌধুরী সাম্পান নিউজকে এভাবে বলেছেন।যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবার বিকেলে ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের বোস্টনের ক্যামব্রিজে পুলিশের অহেতুক গুলিতে মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটে।

নিহত সৈয়দ আরিফ ফয়সাল প্রিন্স( ২০) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ভুজপুর থানাধীন থানাধীন দাঁতমারার মরহুম সৈয়দ আবুল বশর মাস্টারের নাতি ও মজিবুর রহমান নান্নু – শাহেদা বেগম দম্পতির একমাত্র।আরিফের বাবা মজিবুর রহমান নান্নু দেশে একজন এমএলএফ ডাক্তার ছিলেন।তবে ৩ বছর আগে তিনি স্ত্রী ও একমাত্র সন্তান আরিফকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাম্ব্রিজে চলে যান।সেখানে তাঁর পরিবারের সদস্যরা আগে থেকেই বসবাস করতেন।আরিফ সেখানকার ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস এমহার্স্টে ভর্তি হয়।

আমেরিকার স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায় ,নিহত আরিফের হাতে একটি চাকু দেখে কোন একটি বাড়ী থেকে পুলিশকে ফোন করা হয়।পরে পুলিশ এসে তাকে তাড়া করে এবং এক পর্যায়ে গুলি করে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করে।

তবে আরিফের মামা আইয়ুব চৌধুরী বলেন, আমার বোন ও বোনের জামাই দুই জনই চাকরি করে। সেদিন তারা একসাথে গরুর মাংস দিয়ে সকালের নাস্তা করে।এরপর বোনের জামাই অফিসে চলে যায়।আর বোন অসুস্থ হওয়ায় হাসপাতালে যায়।বাসায় বোনের বৃদ্ধ শাশুড়ি থাকায় আরিফ বাসায় ছিলো।এরমধ্যে দুপুর ১ টার দিকে আরিফ বাসার সামনে রাস্তায় বের হয়।এরমধ্যে বাইরে হৈচৈ শুরু হয়।পরে জানলাম, আরিফের হাতে চাকু দেখে পুলিশ এসে তাকে ধাওয়া দিয়ে গুলি করেছে।

আইয়ুব চৌধুরী বলেন,’ পুলিশ বলছে আরিফের হাতে চাকু ছিলো ও পুলিশ দেখে সে দৌঁড় দিছে। পুলিশ দেখে দৌঁড় দেয়া তো স্বাভাবিক। আর এক্ষেত্রে প্রয়োজনে পায়ে গুলি করতো।এই ছোট একটি ছেলের বুকে এরা ৫ টি গুলি করেছে। এটা তো কোনভাবেই মানা যায় না।

নিহত আরিফের মামা বলেন, আরিফ ছোটকাল থেকেই ধর্মপরায়ণ ছিলো।তবে গত বছর থেকে সে আরও বেশি ধর্মমুখী হয়ে পড়ে।পরিবারের সবাইকে ধর্মীয় বিধিবিধান মানার জন্য বলতেন ।গত মাসে তার মায়ের জন্য একটি অর্থসহ কুরআন নিয়ে আসে।এরপর মাকে অর্থসহ এই কুরআন পড়তে প্রতিদিন তাগাদা দিতে থাকেন।সে সেখান থেকে আত্মীয় স্বজনদের সাথেও যোগাযোগ রাখতো।সবার খোঁজ খবর নিতো।এমন একটা মেধাবী ও ভালো ছেলের এই করুণ মৃত্যু আমরা কোনভাবেই মানতে পারছিনা।

দেশে থাকা আরিফের প্রতিবেশী আহমদ খালেদুল আনোয়ার বলেন, আরিফের দাদা – চাচারা ২০-২২ বছর ধরে আমেরিকায় থাকে।তবে সে বাবা মায়ের সাথে ৩ বছর আগে আমেরিকায় যায়।দেশে থাকার সময় আমরা তাকে খুব ভালো ও চরিত্রবান ছেলে হিসেবে জানতাম।তার এই করুণ মৃত্যুতে আমরা খুব ব্যথিত।

এদিকে এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।ছুরি হাতে দেখেই পুলিশের গুলি করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সেখানকার বাঙালি কমিউনিটিতে।এরমধ্যে যে পুলিশ গুলি করেছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।ঘটনাস্থল ক্যামব্রিজের মেয়র সুনবুল সিদ্দিকী এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ও নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। তার মৃত্যুর প্রতিবাদে সেখানকার বাঙালি কমিউনিটিতে মানববন্ধন ও শোক মিছিল হয়েছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares