আবু শাহেদ, হাটহাজারী থেকে
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে মাদ্রাসা ও এতিমখানার পাশে মাজার নির্মাণে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।সংঘর্ষের একপর্যায়ে নির্মিতব্য মাজারটি ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়।
শুক্রবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে হাটহাজারী পৌরসভার পৌরসভা ২নং ওয়ার্ড মৌলভীপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, মৌলভীবাজারের আর রবিয়া হামিদ আলী তাহফিজুল কুরআন মাদ্রাসা ও এতিমখানা এবং আন নূর মহিলা মাদ্রাসার পাশে মাজার নির্মাণে বাধা দেওয়ায় এলাকাবাসীর সঙ্গে বিতর্ক ও সংঘর্ষে জড়ায় হুমায়ন বশর প্রকাশ হিরু নামের এক কবিরাজ-জাদুকর। এনিয়ে গত শুক্রবার সকালে মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা নুরুল আবছারকে ওই কবিরাজ মারধর করে। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে নির্মাণাধীন মাজার ভাংচুর ও কবিরাজের বাড়িতে হামলা চালায়।
মাজারের উদ্যোক্তা হুমায়ন বশর হিরু বলেন,আমি একজন কবিরাজ ও নামকরা জাদুকর। দীর্ঘদিন যাবত এই এলাকায় বসবাস করে আসছি। কিছুদিন আগে আমি নুরুল আবছার হুজুরকে ২০ হাজার টাকা হাওলাদা দিয়েছি। ১০ হাজার টাকা ফেরত পায়। বাকি টাকা চাইতে গেলে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারি হয়। এনিয়ে মৌলভীপাড়া এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে আমার মাজার ও বাড়িঘর ভাঙচুর, স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুটপাট করে নিয়ে গেছে। এ সময় জুনু সওদাগরের ছেলে আরিফ ভাই ও নুরুল আবছার হুজুর এখানে দাঁড়িয়ে ছিল। আমি এখন অসহায় ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
ওই এলাকার সর্দার মোঃ আরিফুল ইসলাম বলেন, হিরুর চরিত্রের সঙ্গে মাজার কোনোভাবেই যায় না। হিরু একজন ভন্ড কবিরাজ, সে নিজেকে বাংলার হিরু ও জাদুকর দাবি করে এখানে দীর্ঘদিন যাবত বসবাস করে আসছে। সে একজন রোহিঙ্গা। এই এলাকায় বসবাসের পাশাপাশি সে ইয়াবা ব্যবসা ও মেয়ে নিয়ে ফুর্তি করে, নাচগান করে। এ নিয়ে আমরা প্রশাসনকে অনেকবার অবগত করেছিলাম। সে সকলকে মাশয়ারা দিয়ে আসছে বলে দাবি করে। সুতরাং তাকে কেউ কিছু করতে পারবে না। রাজনীতিতেও নাকি তার ভালো অবস্থান। তিনি আরো বলেন, মাদ্রাসার পাশে সরকারি জায়গা দখল করে মাজার নির্মাণে নুরুল আবছার হুজুর আপত্তি করায় ভন্ড কবিরাজ হুজুরকে অতর্কিতভাবে হামলা করে। তিনি দুটি মাদ্রাসার পরিচালক। সে হুজুরের কাছ থেকে রিতিমত চাঁদা দাবি করে আসছিল। তার কূনজর থেকে রক্ষা পাচ্ছেনা এলাকার মা বোনেরা। কবিরাজের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর ঘটনাটি মিথ্যা। গত কিছুদিন আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ব্যঙ্গ করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয় এই কবিরাজ।
মৌলভীপাড়া জামে মসজিদের ইমাম, আর রবিয়া হামিদ আলী তাহফিজুল কুরআন মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা মোঃ নুরুল আবছার বলেন, মৌলভীপাড়া জামে মসজিদের ইমাম ও একটি মাদ্রাসার দায়িত্ববান হিসেবে আমি এই এলাকায় দীর্ঘদিন যাবত বসবাস করে আসছি। মাদ্রাসার পাশে সরকারি জায়গা দখল করে ভন্ড কবিরাজ হিরু মাজার নির্মাণ করে আসছিল। মাজার নির্মাণ কাজের পাশাপাশি অবৈধ মহিলা এনে নাচগান করায়। আমি আপত্তি জানাইলে সে আমাকে মারধর করে। আমি ঘটনাটি বড় হুজুরকে জানিয়েছি। তিনি আইনি পরামর্শ দেন।
হেফাজত ইসলামের নায়েবে আমীর ও হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক আল্লামা ইয়াহিয়া বলেন, নানারকম কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাসের নাগপাশে আবদ্ধ হয়ে অন্ধকারে তলিয়ে যেতে বসেছে ওই এলাকা। নুরুল আবছার বিষয়টি আমাকে জানিয়েছে। ঘটনাটি দেখার জন্য আমি ওসি সাহেবকে বলেছি। তিনি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবেন।
হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন সবুজ বলেন, মৌলভীপাড়ার পশ্চিমে মাদ্রাসার পাশে মাজার নির্মাণে দু’পক্ষের সংঘর্ষ ও মারামারির ঘটনায় উভয়পক্ষে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেন। এঘটনায় তদন্ত চলছে।
