বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

সরকার পতনের আন্দোলনের সূচনা হচ্ছে এই গণমিছিল: খন্দকার মোশাররফ

প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২২ | ২:২৪ অপরাহ্ণ আপডেট: ২৪ ডিসেম্বর ২০২২ | ২:৪৭ অপরাহ্ণ
সরকার পতনের আন্দোলনের সূচনা হচ্ছে এই গণমিছিল: খন্দকার মোশাররফ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, দেশের মানুষের রায় হচ্ছে এই সরকারকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তাই ১০ দফা আমাদের যে দাবি তা পূরণ করতে হবে। এই স্বৈরাচারী সরকার আপোষে তা মেনে নিবে না। তাই আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেছেন ফয়সালা হবে রাজপথে।বীর চট্টলার মানুষ ফয়সালা রাজপথে করার জন্য প্রস্তুত। এই কর্মসূচীকে অনুসরন করে সারা বাংলাদেশ রাস্তায় নেমে পড়বে এবং এই সরকারকে বিদায় করে দিয়ে রাস্তা থেকে ফিরে যাবে । তাই তাদেরকে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে, সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের গঠনে বাধ্য করতে হবে। এই বাধ্য করার আন্দোলনের সূচনা হচ্ছে এই গণমিছিল। আপনারা যেভাবে বিভাগীয় গণসমাবেশ চট্টগ্রাম থেকে সফলভাবে শুরু করেছিলেন, তেমনিভাবে এই গণমিছিল গণসমুদ্রে রূপান্তর করেছেন।

তিনি শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকেলে বিএনপি ঘোষিত ১০ দফা দাবী আদায়ের লক্ষ্যে নগরীর জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ সংলগ্ন ওয়াসা মোড়ে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির গণমিছিলের পূর্ববর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন

খন্দকার মোশাররফ বলেন, এই সরকার লুটেরা সরকার, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি এবং দেশের টাকা বিদেশে পাচার করে অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এই সরকার কারনে আজকে অর্থনীতির এমন অবস্থা হয়েছে যে, আমদানিকরাকরা এলসি খুলতে পারে না । তার জন্য আজকে বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ অবস্থা।দ্রব্যমূল্যের উধ্বগতির কারনে গরিব মানুষ না খেয়ে থাকছে, মধ্যবিত্ত মানুষ আরো গরীব হয়ে গেছে। আগে যেখানে দারিদ্রের সীমা ২০ শতাংশের নিচে ছিলো, এই সরকারের দুর্নীীতি ও অর্থনীতি ধ্বংস করার কারনে সেই দারিদ্রের সীমা ৪০ শতাংশে উঠে গেছে। সরকার গায়ের জোরে ক্ষমতায় থাকার জন্য বিচার বিভাগকে দলীয় করণ করে ধ্বংস করে দিয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, কিছু দিনের মধ্যে একটা হুইসেল দিবে। সেই হুইসেল মানে সরকার পতনের হুইসেল। তখন লাখ লাখ জনতার রাজপথ দখল করতে হবে ।

মীর নাসির আরো বলেন, ওবায়দুল কাদের বলে নির্বাচন নাকি করতে দিবে না। আমরা নির্বাচন করবো, সেই নির্বাচনে জয়ী হবো । সেই ভয়ে আজকে সরকারের হৃদকম্পদ শুরু হয়ে গেছে। চট্টগ্রাম বিএনপির চট্টগ্রাম। আগামী হুইসেলের জন্য অপেক্ষা করেন, দেখবেন সকালে উঠে তারা সবাই পালিয়ে গেছে। আবার জনতা ক্ষমতায় আসবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার বলেন, সারাদেশে ১০ টি গণসমাবেশ নানা বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে জনগন সফল করেছিলো। আজকের এই গণমিছিলের একটি শ্লোগান ওঠেছে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই। বিএনপি ঘোষিত ১০ দফার মাধ্যমে অবিরাম সংগ্রাম শুরু হয়েছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এস এম ফজলুল হক বলেন, আওয়ামিলীগ গায়ের জোরে সরকারে আছে। এই ফ্যাসিবাদি সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। এই দেশের মানুষের ভোটের অধিকার তারা ছিনতাই করেছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, আওয়ামীলীগ এখন প্রশাসন ও রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করছে। কিন্তু এসব করে আওয়ামীলীগের শেষ রক্ষা হবেনা। গায়েবী মামলা দিয়ে পতন ঠেকানো যাবেনা। একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীন এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় নির্বাচন হতে হবে। যদি নিরপেক্ষ সরকার না থাকে, বিএনপি সে নির্বাচন মেনে নেবে না।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আজকের গণমিছিল প্রমাণ করেছে জনগণ এই সরকারকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। আমরা জনগণ নিয়ে সমাবেশ করও। আর আওয়ামিলীগ বিরানির পেকেট দিয়ে সমাবেশে মানুষ আনে। এই হচ্ছে বিএনপি আর আওয়ামিলীগোর মধ্যে পার্থক্য। আমরা মানুষের অধিকার রক্ষার সংগ্রামে আছি, ভবিষ্যতেও থাকবো। সরকারের জেল জুলুম হুলিয়ার বিরুদ্ধে জনগণ জেগে ওঠেছে। বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্করের পরিচালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এম নাজিম উদ্দীন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ব্যারিষ্টার মীর হেলাল উদ্দীন, সাথী উদয় কুসুম বড়ুয়া।এতে অন্যান্যের মধ্যে দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান, মহানগর বিএনপির সি. যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব এম এ আজিজ, বিএনপি নেতা এম এ হালিম, মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, এড. আবদুস সাত্তার, এস এম সাইফুল আলম, নাজিমুর রহমান, শফিকুর রহমান স্বপন, কাজী বেলাল উদ্দিন, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, মো. শাহ আলম, ইসকান্দর মির্জা, আবদুল মান্নান, এরশাদ উল্লাহ, এনামুল হক এনাম, নুরুল আমিন, অধ্যাপক ইউনুস চৌধুরী, আলহাজ্ব সালাউদ্দিন, নুর মোহাম্মদ, ইঞ্জি. বেলায়েত হোসেন, নুরুল আমিন চেয়ারম্যান, সরওয়ার আলমগীর, কাজী সালাউদ্দিন, এড. ইফতেখার হোসেন চৌধুরী মহসিন, মোস্তাফিজুর রহমান, নাজমুল মোস্তফা আমিন, এস এম মামুন মিয়া উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares