বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

যে কারণে নিয়ন্ত্রণহীন খাতুনগঞ্জের ভোজ্য তেলের বাজার

প্রকাশ: ৫ নভেম্বর ২০২২ | ৬:৫১ অপরাহ্ণ আপডেট: ৫ নভেম্বর ২০২২ | ৬:৫৩ অপরাহ্ণ
যে কারণে নিয়ন্ত্রণহীন খাতুনগঞ্জের ভোজ্য তেলের বাজার

বিশেষ প্রতিনিধি

দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ ভোজ্যতেলের বাজার হঠাৎ করেই অস্থির হয়ে ওঠেছে।মুলত ডিউ ব্যবসায়ীদের কারসাজির কারণে গত ৩ দিনের ব্যবধানে মনপ্রতি ২১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে ভোজ্যতেলের দাম। যে কারণে সরকার লিটার প্রতি ১৫ টাকা কমালেও খুচরা বাজারে অনেকটা আগের দরেই বিক্রি হচ্ছে এই তেল।আর এটা নিয়ে প্রশাসনেরও নেই কোন নজর।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়,চাক্তাই খাতুনগঞ্জে স্লিপ বাণিজ্য কিছুদিন কম ছিলো।এছাড়া প্রশাসনের নজরদারির কারণে ডিউ বেচাকেনাও নিয়ন্ত্রণে এসেছিল।তবে ইদানিং এসব মধ্যস্বত্বভোগীদের আনাগোনা বেড়ে গেছে এখানে।তারা বাজারে ঘুরেফিরে ডিও বেচাকেনা করছেন। তাদের কারণে বেলা বাড়তে বাড়তে ডিউ এর দাম বেড়ে যায়।আবার সন্ধ্যা গড়াতেই দাম একটু কমে আসে।

শনিবার সকালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়,পাম অয়েলের মণ সকালে ছিল চার হাজার ৫৫০ টাকা।আর বিকেল ৩ টার দিকে তা কয়েক দফায় বেড়ে চার হাজার ৭২০ টাকায় গিয়ে পৌঁছে। আবার সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতেই দাম কমে প্রতি মণ চার হাজার ৬৬০ টাকায় বিক্রি হয়।একই অবস্থা সয়াবিন তেলেও। সয়াবিন তেলের ডিও বাড়তে বাড়তে ছয় হাজার ৭০০ টাকায় পৌঁছে। আবার সন্ধ্যায় তা কমে ছয় হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়।ডলার সংকট ও বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে ডিউ এর দাম বাড়িয়ে দেয় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।

চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার ও ব্যবসায়ী সমিতির সেক্রেটারি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, ‘ ডিও ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন নিত্যনতুন কৌশল বের করে দাম বাড়িয়ে দেয়। সকাল থেকে বিকেল হওয়া পর্যন্ত কয়েক দফা দাম বাড়ে।আবার সন্ধ্যা গড়াতে দাম কমে যায়। এখানে একটি সিন্ডিকেটের কারসাজির কারণে বাজার নিয়ন্ত্রণে থাকে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ট্রেডিং ব্যবসায়ী বলেন, খাতুনগঞ্জে এখনো মুখের কথায় বেচাকেনা হয়। মুখে মুখে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ছে। দুইদিনের ব্যবধানে মণপ্রতি প্রায় দুশ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মিল গেট থেকে ভোজ্যতেল সরবরাহ নিতে কয়েকদিন অপেক্ষায় থাকতে হয়। এজন্য প্রতিদিন দুই হাজার টাকা করে অতিরিক্ত গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। তার প্রভাব পড়ছে ভোজ্যতেলে।

খাতুনগঞ্জে তেলের অন্যতম শীর্ষ পাইকারি ব্যবসায়ী আরএম এন্টারপ্রাইজের মালিক আলমগীর পারভেজ বলেন,বিশ্ববাজারে মণপ্রতি দু-আড়াইশ ডলার দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে পাইকারি বাজারে। বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দাম কমানোর প্রভাবে দেশীয় বাজারেও দাম কমেছিল।এখন দাম আবার বেড়ে যাওয়ায় তা সমন্বয় করতে হয়। তারা বাড়িয়ে দেয়ায় আমাদেরকেও বাড়াতে হচ্ছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares