বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২

২০২১ সালে সব সূচকেই প্রবৃদ্ধি বেড়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে

প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ | ৬:২৩ অপরাহ্ণ আপডেট: ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ | ৬:২৪ অপরাহ্ণ
২০২১ সালে সব  সূচকেই প্রবৃদ্ধি বেড়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে

জালাল রুমি,বিশেষ প্রতিনিধি

এই ২০২১ সালের বড় একটি সময়ে লকডাউন থাকলেও এর তেমন প্রভাব পড়েনি চট্টগ্রাম বন্দরে।কর্তৃপক্ষের নতুন নতুন আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্র‍য়, সার্ভিস জেটি ও ওভার ফ্লো ইয়ার্ড নির্মাণ, নতুন টাগ বোট সংগ্রহসহ বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে গতবছরের তুলনায় কনটেইনার হ্যান্ডলিং, কার্গো ও জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

জানা যায়, পণ্যভর্তি ও খালি কনটেইনার ওঠানামার সংখ্যা মিলিয়ে একটি বন্দরে কনটেইনার পরিবহনের সংখ্যা হিসাব করা হয়।এক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এখানের মূল জেটি, পানগাঁও নৌ টার্মিনাল ও কমলাপুর কনটেইনার ডিপোতে কনটেইনার ওঠানো–নামানোর উপর ভিত্তি করে মোট কনটেইনার পরিবহনের সংখ্যা প্রকাশ করে।আর এই কনটেইনার ওঠানামার ওপর একটি বন্দরের গতিশীলতা অনেকটা নির্ণয় করা হয়।

জানা যায়, চট্টগ্রাম বন্দর ২০২১ সালের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছরে ৩১ লাখ ৯৮ হাজার টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। যেটি গত ২০২০ সালে ছিলো ২৮ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৭ টিইইউস।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা যায়,শুধু কনটেইনার হ্যান্ডলিং নয়, পণ্য উঠানামা ও বন্দরে জাহাজ আসার ক্ষেত্রেও বেড়েছে গতি। ২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য উঠানামা হয়েছে ১১ কোটি ২৬ লাখ ৮২ হাজার মেট্রিকটন ।যেটি ২০২০ সালে ছিলো ১০ কোটি ৩২ লাখ ৯ হাজার মেট্রিকটন।

একটি বন্দরে জাহাজ ভেড়ানোর ওপরও সেটির গতিশীলতা বুঝা যায়।২০২১ সালের ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ এসেছে ৪ হাজার ৬৮ টি। অপরদিকে গত ২০২০ সালে এখানে ভিড়েছিল ৩ হাজার ৭২৮টি জাহাজ।

জানা যায়,১৯৭৭ সাল থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার পরিবহন শুরু হয়। তবে গত বছর লকডাউনের কারণে এই কনটেইনার পরিবহন কমে যায়।যেকারণে বৈশ্বিক তালিকায়ও নয় ধাপ পিছিয়ে পড়ে দেশের আমদানি রপ্তানি পণ্যের এই প্রবেশদ্বার ।

এদিকে এইবছর কনটেইনার পরিবহনে রেকর্ড হলেও বন্দরে এবার আগের মতো দীর্ঘ জট লক্ষ করা যায়নি।অর্থাৎ পণ্য হাতে পেতে আগের মতো দিনের পর দিন অপেক্ষা করার অভিযোগ কমে গেছে অনেকটা ।বন্দরের জেটি ব্যবস্থাপনায় নতুনত্ব ও নতুন নতুন যন্ত্রপাতি ক্রয়ের কারণে এমনটা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা।আর এই কাজের ধারা অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক তালিকায় আবারও চট্টগ্রাম বন্দর এগিয়ে যাবে বলে দাবি করছেন তারা।

এই বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক এই প্রতিবেদককে বলেন, ২০২০ সালের মতো এই বছরের লকডাউনের কারণে বেশ কিছুদিন ব্যবসা বাণিজ্য স্থবির ছিলো।এরমধ্যে আমরা বন্দরের কার্যক্রম গতিশীল রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।যেকারণে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং,পণ্য উঠানামাসহ সবকিছুর সূচক ঊর্ধ্ব ছিলো। আগামী ২০২২ সালের বন্দরের গতিশীলতা বাড়াতে নতুন নতুন আধুনিক সরঞ্জামাদি ক্রয়সহ ব্যবস্থাপনায় আরোও কিছু নতুনত্ব আনা হবে।

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares