বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

‘দেশে ৪৯ টি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নাই’

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ৬:৫১ অপরাহ্ণ আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ৬:৫১ অপরাহ্ণ
‘দেশে ৪৯ টি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নাই’

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশে ৪৯ টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাইস চ্যান্সেলর নাই বলে জানিয়েছেন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবু বকর ছিদ্দীক। 

তিনি বলেন, দেশে ৪৯ টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাইস চ্যান্সেলর নাই। একটা নৌকা মাঝি ছাড়া চলেনা। একটা বিশ্ববিদ্যালয় কিভাবে ভাইস চ্যান্সেলর ছাড়া চলবে? সব প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ভালো চলছে তা কিন্তু নয়। সম্প্রতি আপনারা দেখেছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কি চলছে।মানারাত ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি চেঞ্জ করতে হচ্ছে। আমরা চাই, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের সক্ষমতার দিনদিন বাড়াবে, এখানে সরকারের কিছু বলার নাই।

শনিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামে পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শরতকালীন নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮২ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ২ লাখ ৮৩ হাজার টাকা বৃত্তি প্রদান করা হয়।

সচিব আবু বকর ছিদ্দীক বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে আমাদের মূল আউটকাম হলো এসডিজি গোলস। গোলস হলো কোয়ালিটি এন্ড গুড সিটিজেন তৈরি করা। গুড সিটিজেন বলতে নাগরিক তার দেশকে জানবে, দেশপ্রেম সম্পর্কে জানবে, দেশের প্রতি ভালোবাসা থাকবে, আচার-আচরণ ভালো থাকবে, কথায়-কর্মে সৎ হবে। সে তার সমাজ ও পরিবাদের প্রতি দায়ীবন্ধ থাকবে। সে হচ্ছে একজন সুনাগরিক। ভালো শিক্ষা ছাড়া সুনাগরিক হওয়া যাবেনা, শুধুমাত্র সার্টিফিকেট পেলে সুনাগরিক হওয়া যায়না। আমি আশাকরি এখানকার শিক্ষার্থীরা শিক্ষার পাশাপাশি দক্ষতা নিয়ে এখান থেকে বের হবে। এখানে ১০টা সাবজেক্টের মধ্যে বেশকিছু প্রফেশনাল সাবজেক্ট আছে। প্রায়োগিক বিজ্ঞানের কিছু বিষয় আছে।

নবীণবরণ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে যাওয়ার সময় সফলতা ও ব্যার্থতার প্রশ্ন আসে। পড়াশুনা শেষে ৫-৭ বছর পর কোথায় যাবে শিক্ষার্থীদের মাথায় রাখতে হবে। এখনই ভাবতে হবে কোথায় যাবে, না ভেবে শুধু পড়ালেখা করলে কাজ হবেনা। কারণ আমারা জানি কর্মজীবন একটি বড় বিষয়। শিক্ষার একটি বড় উদ্দেশ্য হল সুন্দর জীবনের অধিকারি হওয়া। আমি তোমাদের সুন্দর জীবন প্রত্যাশা করছি।

তিনি বলেন, আমাদের একটি পরিক্ষা কেন্দ্র আছে বান্দরবনের ঘুমধুমে। সেখানে গতকাল সমস্যা হয়েছিল, আমাদের লোকজন মারা গিয়েছে। গতকাল রাত নয়টার সময় পরিক্ষা কেন্দ্রটি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওটা হল বান্দরবন জেলায়,পরিবর্তন করা হয়েছে উখিয়ার কুতুপালংয়ে। জেলা কিন্তু ২টা, উপজেলাও ২টা। এবং ছাত্রছাত্রীরা সবাই মিলে ৪শ জনের বেশি, তাদের বাসে করে নিয়ে যাওয়া, পরীক্ষার সাজ-সরঞ্জাম কেন্দ্রে আগে থেকে নিয়ে রাখা, সবকিছু মিলিয়ে একটি বড় ধরণের ঝামেলা ছিল।

জনসমক্ষে ৬ দফা প্রথম চট্টগ্রামে উত্থাপন করা হয়েছে উল্লেখ করে শিক্ষা সচিব বলেন, চট্টগ্রাম বাংলাদেরশের ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা রেখে আসছে।মাস্টার দা সূর্জসেনের ১৯৩০ সালের বিদ্রোহ থেকে শুরু করে ১৯৬৬ সালে ৬দফা আন্দোলন। ৬ দফার প্রস্তাব বঙ্গবন্ধু দিয়েছেন লাহোরে, ১৯৬৬ সালে ৬ ফেব্রুয়ারি। লাহোরে উত্থাপনের পর পূর্ব পাকিস্তানে ঢাকায় সেটা জনসমাবেশে উথাপনের সুযোগ পাননি। সেটাকে এসে লালদিঘির ময়দানে প্রথম জনসমক্ষে উত্থাপন করা হয়েছে। সেই লালদিঘির ময়দানে আমরা ৬ দফা মঞ্চ তৈরি করেছি। কিছুদিনের মধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেটা উদ্বোধন করবেন।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারের পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপনারা জানেন আমাদের সরকারের আর্থিক ক্ষমতা অনেক সীমিত।দেশের সকল ছেলেমেয়েকে বিনা পয়সায় লেখাপড়া করানো সম্ভব হয়না।সেখানে প্রায়ভেট বিশবিদ্যালয় তথা প্রাইভেট সেক্টর এগিয়ে এসেছে সরকারের পরিপূরক হিসেবে। বর্তমানে ৫০ টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ লাখ ৪০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। দেশে ১০৮ টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়েও প্রায় একই পরিমান,  ৩ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থী আছে। এটা আমাদের পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে। এই জন্য প্রায়ভেট বিশবিদ্যালয়কে ধন্যবাদ জানাই।

সকল শিক্ষার্থীকে বিশ্বমানের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে উল্লেখ করে আবু বকর ছিদ্দীক বলেন,  ‘আমরা এখন যে মডেলটা ফলো করছি সেটাকে বলা হয় গ্লোবাল সিটিজেনশিপ এডুকেশন। এর মানে যে স্টুডেন্টরা এখান থেকে পড়াশোনা করে বের হবে, সে লোকাল এবং গ্লোবালি সমান ভাবে দক্ষ থাকবে। সব জায়গায় সমানভাবে সে পারফর্ম করতে পারবে। এটা কিন্তু আমারদের লক্ষ রাখতে হবে। পৃথীবিটা অনেক ছোট হয়ে আসছে, আমাদেরকে সারা বিশ্বের নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাচারাল সাইন্স বিভাগের শিক্ষিকা পূনম মুৎসুদ্দি ও কম্পিউটার সায়ন্স বিভাগের শিক্ষক সৌরভ অধিকারীর যৌথ সঞ্চালনায় নবীন বরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. নূরল আনোয়ার। 

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য অধ্যাপক ড. এম মুজিবুর রহমান, মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, মোহাম্মদ আলী আজম স্বপন, আহসানুল হক রিজন, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব কামরুল হাসান তালুকদার, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. গণেশচন্দ্র রায়, রেজিস্ট্রার ওবায়দুর রহমান প্রমুখ।

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares