বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

এবার জঙ্গল সলিমপুর নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক

প্রকাশ: ৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ১:৫৯ অপরাহ্ণ আপডেট: ৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ২:০৩ অপরাহ্ণ
এবার জঙ্গল সলিমপুর নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রায় তিন দশক চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরের পাহাড়ে গড়ে উঠেছে হাজারো অবৈধ স্থাপনা। এছাড়া এখানে আছে বিভিন্ন সন্ত্রাসী বাহিনী। তবে গত এক মাস ধরে জেলা প্রশাসন সেখানে শুরু করেছে উচ্ছেদ অভিযান।ইতোমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে রাষ্ট্রীয় ৩১০০ একর জমি। এরমধ্যে এই এলাকার পরিবেশের ভারসাম্য ও পাহাড় রক্ষার্থে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর দুপুর আড়াইটার দিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের এক সভা অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মহিবুল হাসান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।

জানা যায়, এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস উপস্থিত থাকবেন ।সভায় জননিরাপত্তা বিভাগ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, ভূমি মন্ত্রণালয়, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, সুরক্ষা সেবা বিভাগ, আইন ও বিচার বিভাগ এর সিনিয়র সচিব সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, পুলিশ, র‍্যাব, আনসার ও গ্রাম রক্ষা বাহিনীর প্রধানগণ ও চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এছাড়াও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র এম. রেজাউল করিম ও সিডিএ চেয়ারম্যানকে বিশেষ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের উদ্ধারকৃত ৩১০০ একর খাস জমির বিষয়টি সরকারের নজরে আসে।সেজন্যই পাহাড় ও বন রক্ষা করে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য আনয়ন ও জীববৈচিত্র রক্ষার্থে পুনরায় কিভাবে জঙ্গল সলিমপুর এলাকাটিকে সবুজায়নের মাধ্যমে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যায় তার নিমিত্তে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠক হতে যাচ্ছে। এ মাস্টার প্ল্যানের মাধ্যেমে জঙ্গল সলিমপুর এলাকার অন্ধকার যুগের অবসান ঘটবে।

তিনি বলেন, আমরা জঙ্গল সলিমপুর এলাকার বেহাত হয়ে যাওয়া প্রায় ৩১০০ একর খাস জমি উদ্ধার করেছি। বেহাত হওয়া খাস জমি ভূমিদস্যুরা সাধারণ মানুষের কাছে প্লট অনুযায়ী দখলস্বত্ব বিক্র‍য় করে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করেছে।তাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি মামলা করা হয়েছে এবং কয়েকজন কারাগারেও আছেন।

উল্লেখ্য , একসময় জঙ্গল সলিমপুর চট্টগ্রামের এক বিচ্ছিন্ন এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল।যেখানে প্রবেশ করতে গেলেও ভূমিখেকো ও সন্ত্রাসীদের দেয়া পরিচয়পত্র ছাড়া কেউ ঢুকতে পারতোনা।প্রশাসনের কেউ যাতে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্যে তাদের নজরদারী ছিলো।এলাকাটি ছিলো সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য। জঙ্গল সলিমপুর এলাকাটিতে অনেক পাহাড় রয়েছে। ভূমিখেকো ও সন্ত্রাসীরা সেসব পাহাড় কেটে সাবাড় করে প্লট বিক্রয় করছিল।তারা খেকোরা পাহাড় কেটে, অবৈধ বিদ্যুত সংযোগসহ অবৈধভাবে আবাসস্থল তৈরী করেছে। ইদানীং এ বিষয়ে নজর দেয় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ।এ কয়দিনে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জংগল সলিমপুরে বেশ কয়েকটি অভিযানে প্রায় ৩১০০ একর খাস জমি উদ্ধার কার্যক্রম চলছে।এছাড়া সেখানকার ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলাও করা হয়।

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares