বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

গরীব বাবা মায়ের আশার প্রদীপটি নিভিয়ে দিলো বেপরোয়া বাস

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২২ | ৩:৩৬ অপরাহ্ণ আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২২ | ৪:০২ অপরাহ্ণ
গরীব বাবা মায়ের আশার প্রদীপটি নিভিয়ে দিলো বেপরোয়া বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ২০১১- ১২ সেশনের শিক্ষার্থী নজরুল ইসলাম। তিন বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করে তিনি খণ্ডকালীন চাকরি নেন চট্টগ্রামের পটিয়ার একটা বেসরকারি কলেজে।অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের এই সন্তানের ইচ্ছা ছিলো খুব ভালো একটা চাকরি করবেন।পরিবারের অভাব অনটন দুর করবেন। যে কারণে নিয়মিত বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষা দিয়ে যাচ্ছিলেন।এরকম একটা পরীক্ষায় অংশ নিতে শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে বাসে উঠেন তিনি।দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে ঢাকায় পৌঁছেই দুইটি বেপরোয়া বাসের মাঝখানে পড়ে মারা যান ২৯ বছরের এই টগবগে যুবক।

শুক্রবার ( ২৬ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে ওই মর্মান্তিক দূর্ঘটনা ঘটে।

নিহত নজরুল ইসলাম কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার দিনমজুর সুরুত আলীর একমাত্র পুত্র। নজরুল বিয়ে করেছেন।তার দুই বছর একটা পুত্র সন্তান আছে।

জানা যায়,রাজধানীর কুর্মিটোলায় একটা নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে নজরুল শুক্রবার ভোরে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার গাড়িতে উঠেন। দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ডে নামলে বেপরোয়া একটি বাস নজরুলকে চাপা দেয়।এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

নজরুলের ভাগ্নে সোহেল রানা সাম্পান নিউজকে বলেন, আমার মামার শুক্রবার বিকেলে কলেজে চাকরির পরীক্ষা ছিলো। তাই তিনি আজ শুক্রবার ভোরের একটা বাসে চট্টগ্রামে রওনা দেন।এই পরীক্ষা দিয়েই উনার রংপুরে যেতেন। আমার এক খালো গাড়ি এক্সিডেন্টে আহত হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তি আছেন। পরীক্ষা শেষে মামা রংপুরে গিয়ে উনাকেও দেখে যাওয়ার কথা ছিলো।

সোহেল রানা বলেন,মামা দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে সায়েদাবাদে বাস টার্মিনালে বাস থেকে নামছিলেন।এসময় বেপরোয়া দুইটা বাস তালাতালি করে স্যান্ডে ঢুকতে দিয়ে আমার মামা গাড়ি দুইটার মাখখানে পড়ে যান।এতেই তিনি ঘটনাস্থলে মারা যান।

সোহেল রানা বলেন, আমার মামারা ৪ বোন এক ভাই।নানা একসময় দিনমজুর ছিলেন।এখন উনি প্যারালাইজড। মামার উপরই পুরো পরিবার নির্ভরশীল। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা অবস্থায় ক্যাম্পাসে টিউশিনি করে পরিবারের জন্য টাকা পাঠাতেন।উনি বলতেন ভালো একটা সরকারি চাকরি পাবেন।চাকরি পেলে ঘরে আর সমস্যা থাকবে না।এখন এই চাকরির পরীক্ষা দিতে গিয়েই পুরো পরিবারকে বড় এক পরীক্ষায় ফেলে দিয়েছেন।

এদিকে দুর্ঘটনার খবর শুনে নজরুলের বিশ্ববিদ্যালয়ের দুপুরে সায়েদাবাদে বাস স্ট্যান্ডে যান।এসময় পরিবহন মালিক শ্রমিকরা তাদেরকে লাঞ্ছিত করে। এই বিষয়ে বাড়াবাড়ি না করতে হুমকি দেন।এই বিষয়ে কোন মামলা মোকদ্দমা না করতেও তাদেরকে হুমকি দেন মালিক শ্রমিকরা।

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares