নিজস্ব প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক হিন্দু সংগঠন ইসকনের বিরুদ্ধে কটূক্তি ও উস্কানিমূলক স্ট্যাটাস দেয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকসহ ৫ হিন্দু যুবককেই কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
রোববার (১৭ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জহিরুল কবিরের আদালত এ আদেশ দেন।
আসামিরা হলেন— প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সুজন বিশ্বাস (৪০),ভিআইপি টাওয়ার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কান্তি চৌধুরী (৪৩), সুভাষ মুহুরী (৩৪), সদীপ দে (৪০) ও সুশীল দে টিটু (৩৩)।
জানা যায়,গত বছরের ২৩ আগস্ট নন্দনকাননের রাধামাধব ও গৌর নিতাই মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক তাপস আর্চায্য বাদী হয়ে চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেন। কাউন্টার টেরোরিজমের উপ পরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুল হাসান মামুন চলতি বছরের ২৫ এপ্রিল এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। এরপর ওই ৫ আসামির বিরুদ্ধে সমন জারি করে আদালত। আজ ৫ আসামি আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে শুনানি শেষে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শুভাশীষ শর্মা বলেন, ইসকন ও প্রবর্তক সংঘের মধ্যে মন্দির পরিচালনা নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল। এ বিষয়কে পুঁজি করে আসামিরা ‘সেভ প্রবর্তক সংঘ’ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপ খুলে ইসকনের নামে নানা অপপ্রচার চালান এবং পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর বিরুদ্ধে কটূক্তি, মানহানিকর বক্তব্য এবং উস্কানি প্রদান করেন। এ ঘটনায় গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর ইসকনের পক্ষে নন্দনকানন রাধামাধব মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক তাপস আচার্য প্রকাশ তারণ নিত্যানন্দ দাস ব্রহ্মচারী সাইবার ট্রাইব্যুনাল চট্টগ্রামে একটি মামলা করেন।
তিনি বলেন,আদালত মামলাটি কাউন্টার টেরোরিজমকে তদন্তের নির্দেশ দেন। কাউন্টার টেরোরিজম তদন্ত করে প্রাথমিক সত্যতার বিষয়টি আদালতে প্রতিবেদন আকারে জমা দিয়েছে। রিপোর্টের প্রক্ষিতে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছিল। আসামিরা আদালতে আত্মসর্মপন করে জামিনের আবেদন করেন। আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
