নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে সেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।প্রতিবেদনে মালিকপক্ষের অবহেলার কারণেই মুলত এই দূর্ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়।এছাড়া কোন নাশকতা নয়, হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড থেকেই এই আগুন ও বিষ্ফোরণ ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
বুধবার (৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বিভাগীয় কমিশনারের কাছে ১৯ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএম ডিপোতে কমপ্লাইয়েন্সে বা নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সমস্যা ছিল।ডিপো তদারকিতে ছিলো অব্যবস্থাপনা ও মালিকপক্ষের অবহেলা। ডিপোতে দক্ষ জনবলের ঘাটতি রয়েছে।সেখানে আইএনডিজি কোড মানা হতো না। ডেঞ্জারাস কার্গো পরিচালনায় নিয়মনীতিও মানা হয়নি সেখানে।
প্রতিবেদনে উঠে আসে, ৫ শতাংশ নয় – বিএম ডিপোর ৫১ শতাংশের মালিক দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক মজিবুর রহমান।আর আল রাজি ক্যামিকেলের শতভাগের মালিক এই আওয়ামী লীগ নেতা।একইসাথে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ডিপোতে কোন নাশকতা ঘটেনি। মজিবুর রহমারের মালিকানাধীন আল রাজী ক্যামিকেল ইন্ডাস্ট্রিতে তৈরি হাইড্রোজেন পার অক্সাইড থেকেই এই বিষ্ফোরণ ঘটেছে।
প্রতিবেদন সম্পর্কে তদন্ত কমিটির প্রধান মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমাদেরকে তিনটি বিষয়ে অনুসন্ধান করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর মধ্যে একটি হলো ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান, দায়দায়িত্ব নির্ধারণ এবং এ ধরনের দুর্ঘটনার প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়ন। আমরা অগ্নিকাণ্ডের কারণ খুঁজে বের করেছি, দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করেছি কারা এর জন্য দায়ী। আমরা ২০টি সুপারিশ করেছি। সেখানে আমরা বৈধ অবকাঠামোগত প্রয়োজনীয়তা সর্ম্পকে তুলে ধরেছি।
তদন্ত কমিটিকে ডিপো মালিক পক্ষের অসহযোগিতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘ডিপোতে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ পাইনি, কোনো সফটওয়ার পাইনি। মালিকপক্ষ জানিয়েছে এগুলোর কোনো ব্যাকাপ ছিল না। কিন্তু আমরা এগুলো রিকভার করার চেষ্টা করেছি। এটা মালিক পক্ষের একটা ব্যর্থতা, কারণ ২০২২ সালে ক্লাউডে বা অন্যত্র কোনো নিরাপদ জায়গায় সিসিটিভি ফুটেজ সেইভ থাকবে না এটি আধুনিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যায় না। বিশেষ করে একজন বিদেশী নাগরিক যেখানে এটি মালিক। এটি মালিক পক্ষের এক ধরনের ব্যর্থতা অবশ্যই।’
মালিক পক্ষ ও সরকার দলীয় নেতারা ডিপোতে যে নাশকতার অভিযোগ উঠেছে বলে দাবি করেছেন সেটার ভিত্তি নেই জানিয়ে মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন,হাইড্রোজেন পার অক্সাইড থেকেই সীতাকুণ্ডের বিএম কন্টেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণের ঘটনায় ১৭ ধরনের নমুনা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের ঢাকা ল্যাবে পাঠিয়ে করা পরীক্ষায় অন্য কোনো কেমিক্যালের অস্তিত্ব মিলেনি।
তিনি বলেন, ‘আমরা সবকিছু পর্যালোচনা করে এই রিপোর্ট তৈরি করেছি। এই রিপোর্টের একটি সীমাবদ্ধতা আমরা পেয়েছি, সেটি হলো যারা ওই প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন তাদের মধ্যে প্রায় ১৬ জন ডিপো কর্মী দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। এটি আমাদের জন্য একটা সীমাবদ্ধতা।তারা নিহত হওয়ায় আমরা তাদের বক্তব্য নিতে পারিনি। ডিপো পরিচালনার সঙ্গে জড়িত উচ্চ পর্যায়ের দুয়েকজনের সঙ্গে আমর কথা বলতে পারিনি। এর মধ্যে একজন মহাব্যবস্থাপক বিদেশ ছিলেন, আরেকজন হলেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক। উনার নামে মামলা থাকায় তিনি পলাতক রয়েছেন।’
