সাম্পান ডেস্ক
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসের বিশেষ আকর্ষণ ও অন্যতম বিনোদন স্পট ঝুলন্ত সেতু। ব্যতিক্রমী এ স্থাপনাকে ঘিরে সারাদিন চলে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস, আড্ডা আর আলাপচারিতা। ক্লাসে যাওয়ার ফাঁকে কিংবা একটু অবসর পেলেই দলবেধে বন্ধু নিয়ে, কেউবা আবার প্রেয়সীর সাথে দোল খেতে ভুলেন না যেন। এককথায় দিনভর শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত থাকে এই সেতু। তবে গত তিন বছরেরও বেশি সেতুটি কাঁটাতারে বাঁধা রয়েছে। পড়ে আছে জীর্ণশীর্ণ অবস্থায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঝুলন্ত সেতুর অনেকগুলো কাঠ ভেঙে পড়েছে। যেগুলো আছে সেগুলো নড়বড়ে অবস্থা। ভেঙে পড়েছে কয়েকটি লোহার গ্রিল, বাকিগুলোতে ধরেছে মরীচিকা। যেখানে প্রতিদিন শতাধিক শিক্ষার্থীর আনাগোনা থাকতো, ঝোপঝাড়ে ঘিরে ফেলেছে সেসব স্থান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ ও ব্যবসায় প্রসাশন অনুষদের মাঝামাঝিতে চবির ঝুলন্ত সেতুটি অবস্থিত। প্রয়াত প্রফেসর ড. আবু ইউসুফ ভিসি থাকাকালে রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতুর আদলে ২০০৯ সালে নির্মাণ করেন বিশেষ এই স্থাপনাটি। এরপর ২০১২ সালে ঘূর্ণিঝড়ে সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে দীর্ঘদিন সংস্কারবিহীন থাকার পর মেরামত করা হয়। প্রতি বছর ভর্তি পরীক্ষার আগে নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে কাঁটাতারে বাঁধা হয় সেতুটি। সেই হিসেবে ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার আগে সেতুটি কাঁটাতারে বাঁধা হয়। এরপর সংস্কারের অজুহাতে আর খোলা হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, ঝুলন্ত সেতুটি সংস্কার করতে বেশি দিন লাগার কথা না। কিন্তু প্রসাশনের সদিচ্ছা ও গুরুত্বের কারণে এটি সম্ভব হচ্ছে না। যে কাজটি এক সপ্তাহের সে কাজটা আজ তিন বছরেও হচ্ছে না। সমাজতত্ত্ব বিভাগের রাসেল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সেতুটি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাড়াও দেশের নানা প্রান্তের সৌন্দর্য পিপাসু মানুষ এ সেতুটি দেখতে আসে। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে সংস্কারের নাম করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেতুটি বন্ধ করে রেখেছে।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) জাহাঙ্গীর বলেন, আমরা এটার প্রস্তাব প্রশাসনকে দিয়েছি। কর্তৃপক্ষ বললেই আমরা সংস্কার কাজ করতে পারবো।
