বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক উপগ্রুপের চিকায় বদলে গেলো চবির হলের নাম

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২২ | ৬:৩৬ অপরাহ্ণ আপডেট: ২৪ জুন ২০২২ | ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক উপগ্রুপের চিকায় বদলে গেলো চবির হলের নাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যায়ের ছাত্রলীগের ট্রেনের বগিভিত্তিক উপগ্রুপের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছিল কেন্দ্রীয় সংগঠন। এনিয়ে কিছুদিন কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মানাও হয়েছিল। তবে আবার নতুন করে বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে সংঘাত বিতর্কে জড়িয়ে পড়ছে তারা।এরমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা হলের ছবি ভাইরাল হয়েছে ব্যাপকভাবে। ছবিতে দেখা দেখা যাচ্ছে ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক উপগ্রুপ বিজয়ের চিকায় অনেকটা মুছে গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের এ এফ রহমান হলের চিত্র।

এ হলের চেহারা। যার ফলে গ্রুপভিত্তিক রাজনীতির নেতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে আছে চারতলা উঁচু লাল দালানের এ এফ রহমান হলটি। আর ধীরে ধীরে হল থেকে মুছে যাচ্ছে স্যার এ এফ রহমানের নাম।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আবাসিক হলগুলো বর্তমানে দখলে রয়েছে ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক গ্রুপগুলোর কাছে। যার ফলে অনেক সাধারণ শিক্ষার্থীকে থাকতে হচ্ছে হলের বাইরে। অন্যথায় কোনো একটি গ্রুপের অনুসারী হিসেবে হলে উঠতে হয় শিক্ষার্থীদের। দীর্ঘদিন হলের আসন বরাদ্দ না হওয়ায় তৈরি হয়েছে এমন হল দখলের সংস্কৃতি।

বগিভিত্তিক উপগ্রুপ বিজয়ের দখলে রয়েছে সর্বোচ্চ তিনটি হল- এ এফ রহমান হল, আলাওল হল এবং সোহরাওয়ার্দী হল, সিক্সটি নাইনের দখলে শাহজালাল হল, সিএফসির দখলে শাহ আমানত হল, এছাড়া শহিদ আব্দুর রব হলে রয়েছেন বাংলার মুখ, ভিএক্স ও কনকর্ডসহ কয়েকটি গ্রুপের অনুসারীরা। সূর্যসেন হলে রয়েছে এপিটাফ গ্রুপের অনুসারীরা। বছরের বিভিন্ন সময় বগিভিত্তিক গ্রুপগুলো ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় চিকা মেরে নিজেদের অবস্থান জানান দেয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের এ এফ রহমান হলের চিত্রটা ভিন্ন। পুরো হলজুড়ে চিকা মারায় পাল্টে গেছে হলের আসল রুপটাই।

আর এর ফলে ভবনটি প্রথম কেউ দেখলে বিজয় হল ধরে নিয়ে ভুল বুঝতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য দেখতে অনেকেই আসেন এই ক্যাম্পাসে। আর হলটির সামনে এসে তারা এ এফ রহমান হলকে দেখেন রঙচঙে বিজয় হল হিসেবে। বাইরের মানুষ নয়, খোদ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও মাঝে মাঝে দোদুল্যমান অবস্থায় পড়ে যান এই হলের নাম নিয়ে। বিশেষ করে নতুন শিক্ষার্থীরা এই সমস্যায় পড়ে থাকেন। এমন পরিস্থিতিতে এই চিকা মুছে হলটির সঠিক পরিচয় অক্ষুণ্ণ রাখার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আহসান হাবিব বলেন, প্রথমদিন এসে ভেবেছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো চবিতেও বিজয় ৭১ হল রয়েছে। পরে জানতে পারি এখানে ছাত্রলীগের ‘বিজয়’ গ্রুপের অনুসারীরা থাকে বলেই হলটির চিত্র এমন।

ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী সাইফ উদ্দিন রুহান বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থী হওয়ায় আবাসিক হলে ঢুকতেই ভয় লাগে। পড়াশোনার চেয়ে এখানে রাজনৈতিক গ্রুপগুলোর চর্চাই বেশি হয়। হলগুলোতে একবার ঘুরে আসলেই বোঝা যায় এখানে কোন গ্রুপের আধিপত্য রয়েছে। সবসময় মনে হয়, এই বুঝি মারামারি লাগল!

বিজয় গ্রুপের নেতা ও ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক নজরুল ইসলাম সবুজ বলেন, শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক রাজনীতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক আগে থেকে চর্চা হয়ে আসছে। আমরা বগিভিত্তিক রাজনীতির পক্ষে নই, তবুও হলগুলোর দেয়ালে কর্মীরা হয়ত তাদের আবেগ থেকে চিকা মারে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি রেজাউল হক রুবেল বলেন, বিষয়টা আমাদের চোখে পড়ার পর আমরা প্রশাসনকে বলেছিলাম বগিভিত্তিক সংগঠনগুলোর চিকা মুছে দেওয়ার জন্য। কিন্তু প্রশাসন এতদিনেও কেন এ বিষয়ে নীরব, এটা আমারও প্রশ্ন। যেহেতু বগিভিত্তিক সংগঠন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ থেকে নিষিদ্ধ, তাই এ ধরনের কর্মকাণ্ড সমর্থন করতে পারি না আমরা।

এ এফ রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. কাজী এসএম খসরুল আলম কুদ্দুসী বলেন, বছরখানেক আগে আমরা যখন পুরো হলটি পরিষ্কার করলাম। এর পরদিনই হলের দেয়ালে চিকাগুলো মারা হয়েছে। এটা আমার কাছেও ভালো লাগেনি। যেহেতু এখানে ছাত্র সংগঠনগুলোর চিকা মারা হয়েছে, তাই তাদের নেতাদেরও বিষয়টি দেখা উচিৎ। এছাড়া আমি একা চাইলে তো হবে না, প্রশাসনেরও সহযোগিতা প্রয়োজন চিকা অপসারণ করতে হলে। সর্বোপরি হলের সৌন্দর্য রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার।

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares