সাম্পান ডেস্ক
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন-২০২৬ ঘিরে ব্যাপক অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও প্রার্থীদের হয়রানির অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ, চট্টগ্রাম। সোমবার (৬ মে) নগরীর কোর্টহিল এলাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেন, আগামী ২১ মে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বাধা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে প্রার্থীদের প্রবেশ করতে না দেওয়া এবং নাজেহাল করার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তারা।
এছাড়া বৈধ ভোটার তালিকা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হয়নি এবং প্রার্থীদের তালিকাও সরবরাহ করা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী ৫ মে বিকেল ৫টার মধ্যে বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশের বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা না করায় পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াকে অবৈধ বলে দাবি করে ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, রাত ৮টার পর নির্বাচন কমিশন অফিস ও সরকারি দলের পক্ষ থেকে ফোনে যোগাযোগ করে আপস-সমঝোতার মাধ্যমে নির্দিষ্ট প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে রাজি না হওয়ায় দলীয় প্রভাব খাটিয়ে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
নেতারা অভিযোগ করেন, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী প্রার্থী ও আইনজীবীরা গুণ্ডা ও প্রশাসনের মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক হয়রানির শিকার হয়েছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অপর দুই কমিশনারের দলীয় আচরণ ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে সমিতির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়।
সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, চলমান পরিস্থিতি গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী এবং এটি নতুন করে এক ধরনের একনায়কতান্ত্রিক প্রবণতার ইঙ্গিত বহন করছে। এ অবস্থায় নির্বাচনের পরিবেশ সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে বলে দাবি করে তারা।
এসব অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের প্রতিবাদে ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন-২০২৬ বর্জনের ঘোষণা দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট নামসুল আলমসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
