সাম্পান ডেস্ক:
চট্টগ্রামের জনবহুল এলাকা থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার হওয়া শিশু ইরামণির ঘটনাটি এখন টক অব দ্য টাউন। শিশুটির বাঁচার লড়াই এবং তার বাবার পুলিশ হেফাজতে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা ধোঁয়াশা। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার একটি বিস্তারিত চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
শিশু ইরামণিকে তার নিজ বাসভবন বা বাবার বর্তমান আবাসস্থল থেকে অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকারী এবং স্থানীয় সূত্র জানায়, শিশুটি যখন উদ্ধার হয় তখন সে যন্ত্রণায় ছটফট করছিল। তাকে দ্রুত নিকটস্থ থানায় খবর দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা এবং শিশুর জবানবন্দি অনুযায়ী, অপরাধের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল তাদের ঘর বা পারিবারিক পরিবেশ।
উদ্ধারের পর ইরামণি যে প্রাথমিক জবানবন্দি দিয়েছে, তাতে তার বাবার প্রতি সন্দেহের আঙুল উঠেছে। যদিও পুলিশ এখনই তাকে “দায়ী” হিসেবে চিহ্নিত করেনি, তবে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনে এবং ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ তাকে তার বাসস্থান এবং ঘটনার সময়কার অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত কৈফিয়ত দিতে বলেছে। তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, “আসল দোষী শনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না, তবে বাবার সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার।”
চমেক হাসপাতালের ওটিতে (OT) দীর্ঘ সময় অস্ত্রোপচারের পর ইরামণিকে বর্তমানে একটি বিশেষায়িত ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন:
নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আগামী ৭২ ঘণ্টা তার জন্য অত্যন্ত ক্রিটিক্যাল। এই সময়ে তার রক্তচাপ, শ্বাস-প্রশ্বাস এবং অভ্যন্তরীণ জখমগুলো পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
শারীরিক অবস্থা আলহামদুলিল্লাহ, বর্তমানে তার শ্বাস-প্রশ্বাস সচল আছে এবং সে মোটামুটি স্থিতিশীল।
ধর্ষণের বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ বিরাজ করছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে: এখন পর্যন্ত কোনো অফিসিয়াল মেডিকেল রিপোর্ট বা মেসেজ দেওয়া হয়নি। শিশুটির প্রাণ বাঁচানোই ছিল প্রথম লক্ষ্য, তাই আগে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।
আগামীকাল (মঙ্গলবার) ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দল শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন করবেন।
চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ এবং জখমের ধরণ দেখে ধর্ষণের প্রবল আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পুলিশ বর্তমানে ইরামণির দেওয়া তথ্যের প্রতিটি সুতো মিলিয়ে দেখছে। প্রকৃত অপরাধী কে—সে কি তার বাবা নাকি অন্য কেউ—তা নিশ্চিত হতে ফরেনসিক রিপোর্ট এবং বাবার দেওয়া তথ্যের বৈপরীত্য যাচাই করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “আমরা অত্যন্ত স্পর্শকাতরতার সাথে বিষয়টি দেখছি এবং খুব দ্রুতই ঘটনার আসল সত্য জাতির সামনে প্রকাশ করা হবে।”
পি/আর
