আনোয়ারা প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম-১৩ আসনে শীর্ষ সন্ত্রাসী ও অর্ধশতাধিক মামলার এক আসামীকে নিয়ে প্রচরণা করেছেন বিএনপি প্রার্থী ছেলে সাহওয়াজ জামাল নিজাম সনি। এই আসনের বিএনপি ধানের শীষ প্রতীক নির্বাচন করছেন সরওয়ার জামাল নিজাম। আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক সম্রাট হিসেবে পরিচিত আখতার হোসেন। যাকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ গ্রেফতার করে সেনাবাহিনী। এর আগে কোটি টাকার বিদেশি মদসহ একাধিক গ্রেফতার হয়।
শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) জুমার পর সেন্টার বন্দরে প্রকাশ্যেই বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ গ্রহণ করতে দেখা যায়।
এঘটনার পর নির্বাচনী ভোটের মাঠে এলাকায় সাধারণ ভোটারদের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। অন্যদিকে বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝেও চরম ক্ষোভ তৈরী হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রচারণায় একজন তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীর এমন প্রকাশ্য উপস্থিতিকে অনেকেই উদ্বেগজনক বার্তা হিসেবে দেখছেন। এ নিয়ে বিএনপির ত্যাগী ও মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা ক্ষোভে ফুঁসছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরওয়ার জামাল নিজামের অনুসারী বিএনপির প্রভাবশালী এক নেতা জানান, দলের কিছু সুবিধাভোগী ও তথাকথিত হাইব্রিড নেতার আশ্রয় প্রশ্রয়েই একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী বিএনপির সামনের সারিতে জায়গা করে নিচ্ছে। এতে দলের দীর্ঘদিনের আন্দোলন, নির্যাতন ও আত্মত্যাগকে চরমভাবে অপমান করা হচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এমন সন্ত্রাসী যদি বিএনপির প্রশ্রয়ে কিংবা তার মতো লোকজন যদি ক্ষমতাসীনদের কাছাকাছি পৌঁছে যায়, তবে আনোয়ারায় আবারও মাদক, অস্ত্র ও চাঁদাবাজির রাজত্ব কায়েম হতে বাধ্য।
স্থানীয় ও প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, আখতার হোসেন (৪০) চট্টগ্রাম জেলার সরকারী সন্ত্রাসী তালিকায় ৪২ নং তালিকাভুক্ত। গত ১৬ সেপ্টেম্বর আনোয়ারায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে বিপুল মাদক অস্ত্রসহ দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী আখতার হোসেন (৪০) কে উত্তর বান্দর মহলখান বাজার এলাকার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। হত্যাসহ অস্ত্র, মাদক ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে আনোয়ারা ও কর্ণফুলী থানায় তার নামে ১০টি মামলা রয়েছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের তালিকায় তিনি শীর্ষ অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত। এর আগেও আখতার কোটি টাকার বিদেশে মদসহ একাধিকবার গ্রেফতার হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আনোয়ারা উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম বেগম বদনীর ছেলে আখতার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবার, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। আখতারের মা মরিয়ম বেগম ওরফে বদনী সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি । গত ১০ ডিসেম্বর রাত ৯টার দিকে কর্ণফুলী থানাধীন উত্তর বন্দর এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। মরিয়ম বেগম ২০০৪ সালের আলোচিত সিইউএফএল ঘাটে ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার একজন আসামি ছিলেন এবং ওই মামলায় ছয় মাস কারাভোগ করেন।
এদিকে প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন। একজন তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী যখন প্রকাশ্যে রাজনৈতিক প্রচারণায় ঘোরাফেরা করে, তখন প্রশাসনের নিরবতা কেবল রহস্যজনক নয় বরং তা অত্যন্ত বিপজ্জনক। সন্ত্রাসীরা যদি প্রকাশ্যে রাজনীতির মঞ্চ দখল করে নেয়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, ভোটাধিকার ও সুষ্ঠু নির্বাচন আদৌ কি আর সম্ভব।তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক ও সন্ত্রাস-সংক্রান্ত মামলা থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নীরব ভূমিকা জনমনে গভীর সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে আইনের ঊর্ধ্বে কি সন্ত্রাসীরা? নাকি নির্বাচনের অজুহাতে অপরাধীদের সবকিছু মাফ।
এ ব্যাপারে কর্ণফুলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহীনুর আলম বলেন, তিনি প্রচারণা চালাচ্ছেন তা জানা নেই। তবে কেউ যদি কোনো সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ দেন, তাহলে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেবে। এ সময় ৪২ নম্বর তালিকায় মোহাম্মদ আক্তার শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকায় আছেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান।
এবিষয়ে বৈরাগ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফরিদ উদ্দীন বলেন ওই প্রচারণায় বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতারা ছিলো। কিন্তু কোনো সন্ত্রাসী থাকার বিষয়টি তিনি জানেন না।
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে সাহওয়াজ জামাল নিজাম সনিকে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।
