প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ | ৯:৪৫ অপরাহ্ণ আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ | ৯:৪৫ অপরাহ্ণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামের রাউজানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কয়েকটি বসতঘরে বাইরে থেকে দরজা আটকে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তদন্তে নতুন অগ্রগতি পেয়েছে পুলিশ। এই মামলায় আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের পক্ষ থেকে দুপুরে বিষয়টি জানানো হয়।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ জানান, আগের একজন গ্রেপ্তার ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই ছয়জনকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন: মোহাম্মদ ওমর ফারুক, মোহাম্মদ কবির হোসেন, কার্তিক দে, বিপ্লব বড়ুয়া, মোহাম্মদ লোকমান ও মোহাম্মদ পারভেজ।
পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় তাদের হেফাজত থেকে চারটি উসকানিমূলক ব্যানার, কেরোসিন তেলের দুটি কন্টেইনার ও একটি বোতল, তিনটি খালি প্লাস্টিকের বস্তা, একটি মোবাইল ফোন, একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা এবং একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। এসব আলামত অগ্নিসংযোগের প্রস্তুতি ও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দেয় বলে দাবি পুলিশের।
ডিআইজি আহসান হাবিব বলেন, এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া মনির হোসেনের স্বীকারোক্তি ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে এই ছয়জনকে শনাক্ত করা হয়। তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নাম প্রকাশ করা হয়নি। তবে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা সবাই একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
এই নিয়ে রাউজানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বসতঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হলো। গত ২ জানুয়ারি রাঙামাটি থেকে মনির হোসেনকে প্রথম গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশের আগের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাম্প্রতিক সময়ে রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া এলাকায় গভীর রাতে একাধিক বসতঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। প্রতিটি ঘটনাস্থল থেকে একই ধরনের উসকানিমূলক ব্যানার উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ব্যানার ‘অ্যাংকর’ ব্র্যান্ডের মোটর তেলসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্লাস্টিকের বস্তা কেটে তৈরি করা হয়েছিল। ব্যানারগুলোতে সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্টে উসকানিমূলক বক্তব্য, কয়েকজন ব্যক্তির নাম এবং একাধিক মোবাইল ফোন নম্বর লেখা ছিল।
পুলিশ জানায়, প্রথম গ্রেপ্তার মনির হোসেনের বিরুদ্ধে রাঙামাটির লংগদু ও চট্টগ্রামের রাউজান থানায় চুরি ও মাদকসহ চারটি মামলা রয়েছে। একটি মামলায় তিনি ছয় মাসের কারাদণ্ডেও দণ্ডিত হয়েছেন।
ঘটনাগুলো পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে কি না এবং এর পেছনে আরও কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পি/আর
