বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

হাইড্রোজেন পার অক্সাইড কি,এটা এতোই ভয়ঙ্কর?

প্রকাশ: ৬ জুন ২০২২ | ৮:৪৭ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ৬ জুন ২০২২ | ৯:১০ পূর্বাহ্ণ
হাইড্রোজেন পার অক্সাইড কি,এটা এতোই ভয়ঙ্কর?

জালাল রুমি, বিশেষ প্রতিনিধি

সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোর মালিকপক্ষসহ বিভিন্ন সূত্র বলছে ওই ডিপোতে হাইড্রোজেন পার অক্সাইডের একটি চালান ছিল।টেক্সটাইল, ডাইং ও এভিয়েশন খাতের জন্য এটা আনা হয়েছিল।উচ্চ চাপে এই রাসায়নিক বোতলজাত করা হয়েছে। এটা থেকেই বিষ্ফোরণ হয়েছে।মুলত এই ঘটনার পর থেকেই হাইড্রোজেন পার অক্সাসাইড নিয়ে শুরু হয়েছে হৈচৈ।

জানা যায়,হাইড্রোজেন পার–অক্সাইড রাসায়নিক যৌগ যার সংকেত H2O2।এটি নিজে দাহ্য নয় কিন্তু এটা উৎকৃষ্ট জারক ৷ এর ধারে কাছে আগুন জ্বলতে জ্বলতে তাপমাত্রা ১৫০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে গেলে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড ভেঙে অক্সিজেন ও পানি তৈরি করে ৷ এই অক্সিজেন সেখানে প্রচণ্ড দহন বিক্রিয়া শুরু করে যা বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে ৷

বিশেষজ্ঞরা হাইড্রোজেন পার অক্সাইডকে বর্ণনা করেন অক্সিডাইজিং এজেন্ট হিসেবে। সাধারণভাবে একে বলা যায় ব্লিচিং এজেন্ট।তবে সরাসরি হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড ব্যবহার বিপজ্জনক। তাই নিরাপত্তাজনিত কারণে সবসময় এর জলীয় দ্রবণ পরিমিত পরিমাণে ব্যবহার করা হয়।

একটি সূত্র বলছে,হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড তরল পদার্থ।তাই পানিতে তরল আরও ছড়িয়ে পড়ে আগুন বাড়িয়ে দেবে।এ জাতীয় আগুনে জ্বালানি ও পানি দিয়ে তাপ কমানোর উপায় নেই ৷ উপায় হলো অক্সিজেন সরবরাহ কমানো ৷ এর জন্য CO2, CO, শুকনো গুঁড়ো (বালি, মাটি), ফোম উপযুক্ত ৷সীতাকুণ্ডের আগুন থামাতে প্রথমে ফোম দেয়া হয়েছিল।কিন্তু ফোম বেশি ছিল না বলে পরে পানি দেয়া শুরু হয়। তাতেই ঘটে বিপত্তি ৷

তবে ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ প্রথমদিকে তাদের সাথে অনেকটা লুকোচুরি করেছে।যে কারণে এতো বড় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।যার মধ্যে ১০ জন তাদের সহকর্মী। এছাড়া আরো কয়েক সহকর্মী নিখোঁজ আছেন।

নন্দকানন ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, “আমাদের জানানো হয়েছিল গার্মেন্টস পোশাকের ডিপোতে আগুন লেগেছে। সেই হিসেবে আমরা অপ্রস্তুতভাবে আগুন নেভাতে গিয়েছিলাম। পরে জানলাম সেখানে হাইড্রোজেন পার অক্সাইড ক্যামিকেল ছিলো।এটা আমাদেরকে আগে জানালে এতোবড় ক্ষতি হতো না।

হাইড্রোজেন পার অক্সাইড থেকেই বিষ্ফোরণ হয়েছে কিনা জানতে চাইলে বিষ্ফোরক পরিদপ্তর চট্টগ্রামের সহকারী পরিদর্শক মেহেদী ইসলাম খান বলেন, ‘ এমনতো সবাই বলছে।তবে এটা নিয়ে তদন্ত প্রয়োজন।আর পৃথিবীতে হাজারো ক্যামিকেল আছে।বিষ্ফোরক পরিদপ্তর এরমধ্যে বিপজ্জনক ৬৮টি ক্যামিকেল নিয়ে কাজ করছে। এই H2O2 আমাদের বিস্ফোরক তালিকায় নেই।

এদিকে আরেকটা সূত্র বলছেন,অতিরিক্ত পানির কারণে হাইড্রোজেন পার অক্সাইডের কার্যক্ষমতা নিঃশেষ হয়ে যায়।অথচ সীতাকুণ্ডের অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে পানির ব্যবহারে বিস্ফোরণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বলা হচ্ছে, অভিযানের শুরু থেকেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কৌশল হিসেবে পানি ব্যবহারে যথার্থতা প্রমানিত হয়নি। হাইড্রোজেন পার অক্সাইডের কারণেই এমন বিস্ফোরণ ঘটে থাকলে, পানি দিয়েই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হতো।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং সাইনটিস্ট হিসেবে কর্মরত বাংলাদেশি গবেষক ড. আবু আলী ইবনে সিনা বলেন,হাইড্রোজেন পার অক্সাইডকে প্রাথমিক ভাবে বিস্ফোরণের সুচনার জন্য চিহিৃত করা হলেও – বিষয়টির বৈজ্ঞানিক ব্যাখা খুবই দূর্বল। আমি হার্ভার্ডের ল্যাবরেটরিতে কর্মরত বেশ কিছু গবেষকদের সাথে আলাপ করেও ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তার এমন বক্তব্যের যৌক্তিকতা খুঁজে পাই নি।এই হাইড্রোজেন পার অক্সাইড কোন জৈব কেমিক্যালের সংস্পর্শে আসলে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে, নতুবা নয়। ‘

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুন ও বিস্ফোরণের ধরন ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। এটি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী চক্রের নাশকতার প্রচেষ্টাও হতে পারে। এমন ধারনা উড়িয়ে দেয়া যায় না। ‘

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares