প্রকাশ: ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ | ৭:৫৬ অপরাহ্ণ আপডেট: ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ | ৭:৫৬ অপরাহ্ণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের কয়েকজন সদস্য, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও নারী সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ ও লাঞ্ছনাকর মন্তব্য করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব। ক্লাবের নির্বাহী কমিটি দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে প্রেস ক্লাব জানায়, ফেসবুকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অশ্লীল, অপমানজনক ও মানহানিকর বক্তব্য ছড়ানো হয়েছে। এটি শুধু ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়; বরং মুক্ত গণমাধ্যম, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত বলেও মন্তব্য করেছে ক্লাব।
বিবৃতিতে বলা হয়, যাঁরা এসব মন্তব্য করেছেন তাঁরা অতীতে চট্টগ্রামে আন্দোলনরত নারী শিক্ষার্থী ও নারী আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গত জুলাই মাসের আন্দোলনের সময় চেরাগীপাহাড় এলাকায় নারী আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ করে প্রেস ক্লাব। বিবৃতিতে বলা হয়, এসব ঘটনার পরও রাষ্ট্র যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী এখন নতুনভাবে হুমকি–ধমকি দিচ্ছে।
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের নির্বাহী কমিটি বলেছে, সাংবাদিকদের সম্মান ও নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যেকোনো অপতৎপরতা ক্লাব কোনোভাবেই সহ্য করবে না। “অপরাধীরা যে-ই হোক, তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনি শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করব,” বলা হয়েছে বিবৃতিতে।
কোন কোন আইনে অপরাধ দণ্ডনীয়
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত মন্তব্যগুলো বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য। এর মধ্যে আছে—
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০২৪-এর
ধারা ২৬ : অনলাইন হয়রানি
ধারা ২৭ : লিঙ্গভিত্তিক বিদ্বেষমূলক বক্তব্য
ধারা ২৯ : ডিজিটাল মাধ্যমে মানহানি
দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর
ধারা ৫০৯ : নারীর প্রতি অবমাননাকর শব্দ বা ইঙ্গিত
ধারা ৫০০–৫০১ : সম্মানহানিকর বক্তব্য
এ ছাড়া কর্মক্ষেত্রে নারী নিরাপত্তা ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধসংক্রান্ত বিদ্যমান আইনেও এসব কর্মকাণ্ড দণ্ডনীয় বলে উল্লেখ করে ক্লাব।
প্রেস ক্লাবের চার দফা দাবি
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব দায়ীদের বিরুদ্ধে চার দফা দাবি জানিয়েছে-
১. অভিযুক্তদের শনাক্ত করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও দণ্ডবিধির আওতায় মামলা রুজু ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
২. আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত তদন্ত ও গ্রেপ্তার অভিযান চালানো।
৩. অভিযুক্তরা যেসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত, সেই প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া।
৪. নারী সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনলাইন হয়রানি মনিটরিং জোরদার করা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এসব অপরাধের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত না হলে সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণের ঝুঁকি বাড়বে। সাংবাদিকদের পেশাগত ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও জানায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব।
রহা
