সাইফুল ইসলাম
চট্টগ্রামে আদালতের হাজতখানায় বসে ফেসবুকে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন এক ছাত্রলীগকর্মী—এমন ঘটনায় আদালত প্রাঙ্গণে দেখা দিয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। স্পর্শকাতর এই স্থানে পুলিশের প্রহরায় থাকা অবস্থায় কীভাবে মোবাইল ফোন ব্যবহার সম্ভব হলো—তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনার মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ফটিকছড়ি উপজেলা ছাত্রলীগকর্মী মুরাদ মাহমুদ ১১ নভেম্বর, মঙ্গলবার বিকেলে আদালতের হাজতখানার ভেতর থেকে ৫৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করেন।
ভিডিওতে মুরাদকে বলতে শোনা যায়—আমার প্রিয় বাংলাদেশের জনগণ, প্রিয় ফটিকছড়িবাসী, আসসালামু আলাইকুম। আমি কারাগার থেকে মুরাদ বলছি। দীর্ঘ ১৫ মাস নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়ে আজ আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সবাই আমার ও আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবেন। ১৩ তারিখের ঢাকার লকডাউন কর্মসূচি সফল করুন।
বার্তার শেষে তিনি দলীয় স্লোগান দিয়ে বলেন—এক মুরাদ কারাগারে, লক্ষ মুরাদ ঘরে ঘরে। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে। ইউনূস হটাও, বাংলাদেশ বাঁচাও।
তাঁর এই ভিডিওটি মঙ্গলবার বিকেল ৩টা ৫৭ মিনিটে তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করা হয়। এর পরপরই ভিডিওটি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
একইদিন মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন নামে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা ২১ সেকেন্ডের আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়— আদালতের হাজতখানা থেকে প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় মুরাদ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিচ্ছেন, আশপাশের কয়েকজন যুবকও স্লোগান দিচ্ছেন তাঁকে অনুসরণ করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১০ নভেম্বর) দিবাগত রাতে ফটিকছড়ির নিজ বাড়ি থেকে মুরাদ মাহমুদকে গ্রেপ্তার করে ফটিকছড়ি থানা পুলিশ। পরদিন বিকেলে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রাম শাখার সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী বলেন, হাজতখানা বা জেলখানায় মোবাইল ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ধরনের ঘটনা আদালতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম আদালতের জেলা কোর্ট পরিদর্শক হাবিববুর রহমান মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল বলেন, ঘটনাটি আমাদের জানা নেই। আমরা খোঁজ নিচ্ছি।
ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর আহমদ জানান, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার এজাহারনামীয় আসামি মুরাদ মাহমুদকে সোমবার রাতে গ্রেপ্তারের পরদিন আদালতে পাঠানো হয়েছে।
চাঞ্চল্যকর এই ভিডিও বার্তা আদালতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি নিয়ে নতুন করেপ্রশ্ন তুলেছে চট্টগ্রামজুড়ে।
