প্রকাশ: ১১ নভেম্বর ২০২৫ | ৬:০৫ অপরাহ্ণ আপডেট: ১১ নভেম্বর ২০২৫ | ৬:০৫ অপরাহ্ণ
রাঙামাটি প্রতিনিধি
বেশ কয়েকটি সংগঠনের তীব্র বিক্ষোভের মুখে অবশেষে রাঙামাটিতে বহুল আলোচিত প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ( ১১ নভেম্বর) দুপুরে রাঙামাটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: কফিল উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই স্থগিতাদেশ এর তথ্য জানানো হয়েছে।
এই নিয়োগে প্রায় ৯শ ৪০টি প্রাথমিক শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিলো।
স্মারক নং ৩৮.০১.৮৪০০০০০৯৯.০০৬.২৫ ১৫৪৬ উল্লেখিত উক্ত পত্রে জানানো হয়, উপর্যুক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদে হস্তান্তরিত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের অধীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জন্য ১৪/১১/২০২৫ খ্রি. তারিখের নির্ধারিত লিখিত পরীক্ষা অনিবার্য কারণবশত: স্থগিত করা হলো। উক্ত পরীক্ষার পরিবর্তিত সময়সূচি যথাসময়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে জানানো হবে। ইহা সকলের অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্ত অবহিত করা হলো।
এদিকে, রাঙামাটি জেলা পরিষদের প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য বৈশালী চাকমা জানিয়েছেন, জেলা পরিষদের একান্ত সিদ্ধান্তে এই নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। কারো বা কোনো পক্ষের চাপে এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত: এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে সোমবার বেশ কয়েকটি সংগঠনের পক্ষ থেকে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবরে স্মারকলিপি দিয়ে নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধে ২৪ ঘন্টা আল্টিমেটাম দিয়েছিলো সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ।
সোমবার (১০ নভেম্বর) বিকেলে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর সদস্য মিনহাজ মুরশিদ ও সদস্য হাবিব আজমের মাধ্যমে একটি স্বারকলিপি প্রদান করা হয়।
স্বারকলিপিতে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের হস্তান্তরিত প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ তথ্য বিভ্রাট এর কারণে আগামী ১৪ নভেম্বর ২০২৫ অনুষ্ঠিতব্য নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে আরো বলা হয়, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের হস্তান্তরিত প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চলমান পক্রিয়া সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূত, এক তরফা, তথ্য বিভ্রাট ও বৈষম্যমূলক। জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষের দেয়া সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞাপ্তিতে কোন প্রকার কোটা, উপজেলা কোটা এবং শুন্যপদের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।
সরকার ৭ শতাং কোটা নির্ধারিত করে প্রজ্ঞাপন জারি করার পরও রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সরকারী নিদর্শনা না মেনে একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়ে ৭০শতাংশ উপজাতি ও ৩০ শতাংশ বাঙালি অনুসারে নিয়োগ প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করছে। যা বর্তমান পরিষদের অধিনে বিগত সময়ের নিয়োগে প্রমাণিত।
এ বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের রাঙামাটি জেলা সভাপতি মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, বিতর্কিত এ নিয়োগ স্থগিত করায় রাঙামাটি জেলা পরিষদকে ধন্যবাদ জানাই। তবে জেলা পরিষদের উচিত হবে জনদাবি আমলে নিয়ে বাস্তবতার নিরিখে জনসংখ্যানুপাতে নিয়োগ ও নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে নিয়োগের পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া। জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে মানুষ প্রত্যাশা করে সকল পর্যায়ে বৈষম্যমুক্ত ও ন্যায্যতা।
এদিকে অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, রাঙামাটি জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের একটি টিম রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সাথে সাক্ষাত করে এ নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। সাক্ষাতে পরিষদ চেয়ারম্যান পার্বত্য উপদেষ্টার সাথে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিবেন বলে জানিয়েছিলেন বিএনপির নেতৃবৃন্দকে।
আলমগীর মানিক/রহা
