বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাণিজ্য উপদেষ্টা

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ২:৫২ অপরাহ্ণ আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ২:৫২ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাণিজ্য উপদেষ্টা

সাম্পান ডেস্ক

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাঁচামালের অভাব কোনো বড় বাধা নয়। শিক্ষার্থীরা জ্ঞানার্জন ও গবেষণার মাধ্যমে সেই ঘাটতি পূরণ করতে পারে। আল্লাহতালা জ্ঞানার্জনে কাউকে একচেটিয়া অধিকার দেননি, যে যত চেষ্টা করবে সে তত সফল হতে পারবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শুক্রবার (১২সেপ্টেম্বর) রাতে চট্টগ্রামের হোটেল রেডিসন ব্লুতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা গবেষণা ব্যুরোর আয়োজনে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তিনি। সম্মেলনের বিষয় ছিল “ব্যবসার ভবিষ্যৎ: উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও টেকসই উন্নয়ন”।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, লেবার প্রডাক্টিভিটি, ইউটিলিটি প্রোপরশন, লজিস্টিক এক্সিলেন্স, কস্ট টু ফিন্যান্স, একসেস টু ফিন্যান্স এবং একসেস টু মার্কেট নিশ্চিত করতে পারলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব। সঠিক রাজনৈতিক নেতৃত্ব থাকলে পাঁচ বছরের মধ্যেই বাংলাদেশকে ‘সোনার খনি’তে পরিণত করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত রমজানে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগে সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক থাকায় নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে ৫ আগস্টের পর সিন্ডিকেট ভেঙে পড়ায় বাজার পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছিল। সরকারের সমন্বিত পদক্ষেপ ও ব্যবসায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সেই সংকট মোকাবিলা সম্ভব হয়েছে।

বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থার প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, শেখ হাসিনার পতনের পর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ১০ বিলিয়ন ডলার এবং দায় ছিল ৬ বিলিয়ন ডলার। প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সব দায় পরিশোধ শেষে বর্তমানে দেশের রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০ বিলিয়ন ডলারে।

ভবিষ্যৎ সরকার সম্পর্কে প্রত্যাশার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, অতীতে ফ্যাসিস্ট শাসনের সময় ক্রোনিস তৈরি করে সম্পদের বণ্টনে মারাত্মক বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছিল। ভবিষ্যতে সমন্বিত উদ্যোগ ও নিরপেক্ষ সংস্কারের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বাজার পরিচালনা করলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার। উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. তৈয়ব চৌধুরী, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য প্রফেসর মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম এবং সোনালী ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান মুসলিম চৌধুরী।

পরে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ব্যবসায় বিশেষ অবদান রাখায় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন।

এসএস

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares