সাম্পান ডেস্ক
গোপালগঞ্জে এনসিপি নেতাকর্মীদের উপর আওয়ামী লীগ সমর্থকদের হামলার পর ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক বিভ্রান্তিকর ছবি ও তথ্যকে ‘সংগঠিত প্রোপাগান্ডা’ আখ্যা দিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।
বুধবার (১৬ জুলাই) প্রেস উইংয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র ইচ্ছাকৃতভাবে পুরোনো এবং ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কহীন ছবি পোস্ট করে আজকের সহিংসতার মনগড়া ব্যাখ্যা দাঁড় করাতে চেষ্টা করছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ একাধিক অনলাইন অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়িয়ে পড়া এসব ছবি মূলত ২০২২, ২০২৩ এবং ২০২৪ সালের বিভিন্ন সময়ের ঘটনার।
যেমন,
১. আহত এক কিশোরকে বহনের দৃশ্যসহ একটি ছবি ২০২৪ সালের ১০ আগস্টের একটি ভিন্ন ঘটনার,
২. গুলিচালনার একটি দৃশ্য ২০২২ সালের নারায়ণগঞ্জের বিএনপি সমাবেশের সময়ের
৩. হাসপাতালের ছবি ২০২৩ সালের ২০ মার্চের এক আলাদা ঘটনার।
বিশেষভাবে আলোচিত একটি শিশুর ছবি নিয়েও বিবৃতিতে বলা হয়, সেটি গোপালগঞ্জ নয়, বরং গাজীপুরের সফিপুরে ধারণকৃত ২০২৩ সালের একটি ভিডিও থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট। ছবিটির একটি ডিজিটালি সম্পাদিত সংস্করণও ছড়ানো হয়েছে, যা প্রচারনায় শিশুদের রাজনৈতিক সহিংসতায় জড়ানোর ভুয়া বার্তা দিতে ব্যবহৃত হয়।
প্রেস উইং দাবি করে, এই ছবিগুলোর মাধ্যমে একটি নির্ধারিত প্রোপাগান্ডা মিশন চালানো হচ্ছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে যে, এসব ভুয়া প্রচারণা জনমতকে ভিন্ন পথে চালিত করতে এবং সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনকে বৈধতা দিতে ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, গোপালগঞ্জ শহরে নির্ধারিত সমাবেশ শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাদের বহরে হামলার মাধ্যমে আজকের সহিংসতার সূচনা ঘটে। এরপর দ্রুত পরিস্থিতি বিশৃঙ্খলায় রূপ নেয়। সংঘর্ষে অন্তত চারজন নিহত হয়েছে বলে গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ ও প্রশাসনের গাড়িও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাত ৮টা থেকে পরদিন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গোপালগঞ্জে কঠোর কারফিউ জারি করা হয়েছে।
বিবৃতির শেষাংশে বলা হয়, মাঠের বাস্তব ঘটনার বিপরীতে আওয়ামী লীগপন্থী সামাজিক মাধ্যম চক্র ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর, প্রাসঙ্গিকতাবিহীন ও মনগড়া ছবি ছড়িয়ে টাইমলাইন ভরিয়ে ফেলার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা তথ্যগতভাবে মিথ্যা ও জনবিভ্রান্তিকর।
এসএস
