নিজস্ব প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে (চমেক) বহিরাগতদের এনে পূর্বের ছাত্রলীগ সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (১০ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশে তারা এ বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেন।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ কর্মী আসিফ হাসান নিয়নকে ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে অস্থিরতা তৈরির উদ্দেশ্যে গত ৭ জুলাই রাতে কয়েকজন শিক্ষকের প্রত্যক্ষ মদদে বহিরাগত লোকজন হোস্টেল এলাকায় জড়ো করা হয়। শিক্ষার্থীদের দাবি, এটি চমেক ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ এবং এর পেছনে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ সংস্কৃতিকে ফেরানোর সুস্পষ্ট অপচেষ্টা রয়েছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, কে এই বহিরাগতরা? কে এনেছে তাদের? কেন আনা হয়েছে—এর কোনো জবাব আমরা পাইনি। তারা আরও জানান, ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে নষ্ট করে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী দখলদারিত্ব ফিরিয়ে আনতেই এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে।
সমাবেশে বক্তৃতা দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, চমেক ক্যাম্পাসে আবার ছাত্রলীগ সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ। ইতিহাস কাউকে ছাড় দেয় না। তারা প্রশাসনকে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান, নতুবা শিক্ষার্থীরা নিজেদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় নিজ উদ্যোগেই ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানান।
সমাবেশে লিখিত বিবৃতি পাঠ করেন বৈছাআর সাবেক সমন্বয়ক আবরার আল ফয়সাল সিয়াম (৩১তম বিডিএস), মিনহাজুল হক (৬২তম এমবিবিএস), ইনতিসার আহমেদ (৬২তম এমবিবিএস), ও শাহ মোহাম্মদ ইমরান (৬৫তম এমবিবিএস)।
সমাবেশ থেকে শিক্ষার্থীরা দুই দফা দাবি তুলে ধরেন:
১. চমেক ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা কিংবা জুলাই বিপ্লবকে তুচ্ছ করে দেখানোর চেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।
২. ক্যাম্পাস ও হোস্টেলে বহিরাগত প্রবেশ এবং জড়ো হওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে এবং এ বিষয়ে প্রশাসনিক আদেশ জারি করতে হবে।
শিক্ষার্থীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, প্রশাসন দ্রুত তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন করবে—অন্যথায় তারা আরো কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন।
এসএস
