সাম্পান ডেস্ক
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকে চাকরিচ্যুত হওয়া উপসহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিনকে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। প্রায় তিন বছরের দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে অবশেষে ন্যায়বিচার পেলেন তিনি।
বুধবার (৯ জুলাই) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার এবং বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, শরীফ উদ্দিনকে ৩০ দিনের মধ্যে তার পূর্বের পদে পুনর্বহাল করতে হবে। পাশাপাশি, তার যাবতীয় পাওনা ও সুযোগ-সুবিধাও ফেরত দিতে বলা হয়েছে।
২০২২ সালে কক্সবাজারে ভূমি অধিগ্রহণে দুর্নীতির অনুসন্ধান করায় প্রভাবশালীদের রোষানলে পড়েন শরীফ। কোনো কারণ না দেখিয়েই তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে দুদক। সেই সময় তার মা বলেছিলেন, ‘তোকে যখন সত্যের পক্ষে দেখে চাকরি কেড়ে নিল, তুই মাথা নিচু করিস না।’
আজ হাইকোর্টের রায়ের পর শরীফ বললেন, আমি মাথা উঁচু রেখেই হেরেছি, তাই জিতেছি।
হাইকোর্টে রায় ঘোষণার পর দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে শরীফ উদ্দিন বলেন, তিন বছর ধরে এই একটি লাইনের জন্য অপেক্ষা করছিলাম—‘আপনি নির্দোষ, আপনাকে ফিরিয়ে নেওয়া হোক।’ আজ সেই লাইনটা আদালতের মুখে শুনেছি। আমি হেরে যাইনি।
তিনি বলেন, চাকরি হারানোর পরের সময়টা ছিল কঠিন। প্রতিদিন মানসিকভাবে মরে থেকেছি। কেউ শুনতে চায়নি আমার সত্য, আমি একটা গালি হয়ে গিয়েছিলাম—‘দুদক থেকে বের করে দেওয়া লোক।’
নিজের ছোট ছেলে ঈশা সাইফানের কথাও তুলে ধরেন শরীফ। বলেন, ও কখনো আমাকে অফিসে যেতে দেখেনি। আজ আমি বলেছি, তোর বাবা চাকরি ফিরে পেয়েছে। ওর চোখের আলো আমি কাউকে বোঝাতে পারব না।
চাকরিতে ফিরবেন কি না—এই প্রশ্নে শরীফ উদ্দিন বলেন, অবশ্যই ফিরব। আমি সেই টেবিলে আবার বসতে চাই, দুর্নীতির প্রমাণ লিখতে চাই। আমি জানি, অন্যায় যত বড় হোক, একদিন সে মাটিতে পড়বেই।
সবশেষে শরীফ উদ্দিন বলেন, এই রায় শুধু আমার না, এটা সেই প্রতিটি সৎ মানুষের জন্য—যারা হারতে হারতে সত্যের পাশে দাঁড়িয়ে থাকে। আজ প্রমাণ হলো, সত্য একদিন জিতবেই।
এসএস
