বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

এইচএসসি ফল জালিয়াতি: ছেলের জিপিএ-৫ পাইয়ে দেওয়ার মামলায় কারাগারে সাবেক শিক্ষা সচিব নারায়ণ চন্দ্র নাথ

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৫ | ১২:৩২ অপরাহ্ণ আপডেট: ১৮ জুন ২০২৫ | ১২:৩২ অপরাহ্ণ
এইচএসসি ফল জালিয়াতি: ছেলের জিপিএ-৫ পাইয়ে দেওয়ার মামলায় কারাগারে সাবেক শিক্ষা সচিব নারায়ণ চন্দ্র নাথ

নিজস্ব প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সাবেক সচিব অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র নাথকে ছেলের এইচএসসি পরীক্ষার ফল জালিয়াতির মামলায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৭ জুন) চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমানের আদালতে তিনি আগাম জামিনের মেয়াদ শেষে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

চট্টগ্রাম আদালত পুলিশের পরিদর্শক শাহিনুর আলম বলেন, “পাঁচলাইশ থানার একটি জালিয়াতি মামলায় হাইকোর্ট থেকে নেওয়া আগাম জামিনের মেয়াদ শেষে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন নারায়ণ চন্দ্র নাথ। শুনানি শেষে বিচারক তার জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।”

২০২২ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল জালিয়াতির অভিযোগে গত ২১ জানুয়ারি পাঁচলাইশ থানায় নারায়ণ চন্দ্র নাথসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের বর্তমান সচিব অধ্যাপক ড. এ কে এম সামছু উদ্দিন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন—নারায়ণের ছেলে নক্ষত্র দেবনাথ, শিক্ষাবোর্ডের সাবেক সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট কিবরিয়া মাসুদ খান এবং সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুস্তফা কামরুল আখতার।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ফল প্রকাশের পূর্বে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে জালিয়াতির মাধ্যমে নক্ষত্র দেবনাথের ফলাফল পরিবর্তন করে তাকে জিপিএ-৫ পাইয়ে দেন।

নারায়ণ চন্দ্র নাথ ২০১৯ সাল থেকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, সচিব এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। তার ছেলে নক্ষত্র ২০২২ সালে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন।

ফল ঘোষণার পর ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদনের জেরে বিতর্ক শুরু হয়। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে নারায়ণের বিরুদ্ধে জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া যায়।

২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয় এবং তার ছেলের ফলাফল বাতিল করা হয়। এরপর তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়, যা বর্তমানে বিচারাধীন।

এ ঘটনায় শিক্ষা মহলে নৈতিকতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘটনাটিকে নজিরবিহীন হিসেবে উল্লেখ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

 

এসএস

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares