হাটহাজারী প্রতিনিধি
এলাকাবাসীর উদ্যোগে নির্মিত একমাত্র চলাচলের পাকা সেতু তাও ঝু্ঁকিপূর্ণ। প্রতিদিনই জিবনের ঝু্ঁকি নিয়ে সেতু পারাপার অসংখ্য মানুষের। যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দূর্ঘটনা। হালদার প্রবল স্রোতে ভেসে যেতে পারে সেতু। ফলে হাটহাজারী কিংবা রাউজানের সাথে বন্ধ হয়ে যেতে পারে যোগাযোগ ব্যবস্থা চরম দুর্ভোগে পড়বে স্কুল কলেজ মাদ্রাসা শিক্ষার্থী-শিক্ষকসহ সকল পেশাজীবীর লোকজন। মজবুত টেকসই একটি সরকারি সেতুই বাঁচাতে পারে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার ওই ওয়ার্ডের জনগণকে। প্রতি বছর বর্ষা ছাড়াও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভেসে যাওয়ার ভয়ে সেতুটি পাহাড়া আর সংস্কারে লক্ষ লক্ষ টাকা গুনতে হয় স্থানীয়দের। সম্প্রতি প্রবল বর্ষণের তীব্র স্রোতে চরম আতঙ্কে ছিল এলাকাবাসী।
হাটহাজারী উপজেলার গড়দুয়ারা ৭নং ওয়ার্ডস্থ দেড় হাজার মানুষের বসবাস মিন্নাত আলি জিন্নাত আলি বশরত আলি নামের সড়কের ঝু্ঁকিপূর্ণ পাকা সেতুটির আগে চলাচলের সুবিধার্তে প্রথমে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেছিল এলাকাবাসী। এর মধ্যে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, মেম্বার এমনকি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ধারে ধারে ঘুরেছিল এলাকাবাসী। কিন্তু বার বার আশ্বাস পেয়েই ফিরে যেতে হয়েছিল তাদের। কয়েক দফা সরকার পরিবর্তন হলেও পরিবর্তন হয়নি তাদের ভাগ্য। ফলে বাধ্য হয়েই হালদার প্রবল স্রোতে বাঁশের সাঁকো টিকাতে না পেরে এলাকার প্রবাসী ও সকলের আর্থিক সহযোগিতা ও কায়িক শ্রমে নির্মিত হয় প্রায় ৮০ ফুটের দৈর্ঘ্যের পাকা সেতু। কিন্তু হালদার প্রবল স্রোত আর অর্থ সংকটে মজবুত টেকসই না হওয়ায় তা নড়বড়ে। বছরে সংস্কার করতে হয় কয়েক দফা। আর এভাবেই বছরের পর বছর ঝু্ঁকিপূর্ণ সেতু দিয়েই পারাপার হচ্ছে শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুুর প্রথমাংশ, শেষাংশসহ কয়েকটি স্থানেই ফাটল ধরেছে। সেতুর পিলারগুলো নড়বড়ে। হালদার জোয়ারের পানিতে কাঁপতে থাকে সেতু। সম্প্রতি ঈদুল আযহার দুদিন আগেও বন্যার পানিতে চরম ক্ষতির শিকার হয় বলে জানান স্থানীয়রা। সেতুর নাজুক অবস্থায় আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের। সরকারি সহযোগিতার কথা জানতে চাইলেই হতাশা আর ক্ষোভের সুরে তারা বলেন, বিগত সরকারের আমলে এমন কোন জায়গা নেই যেখানে ব্রিজ কালভার্ট হয়নি। কিন্তু একটি ওয়ার্ডের জনগণ এভাবে কস্ট পাচ্ছে তা দেখেও না দেখার ভান করছে সবাই কি তার কারণ তা অজানা। চেয়ারম্যান, উপজেলা প্রকৌশল, নির্বাহী অফিসারসহ অনেক দপ্তরের শরনাপন্ন হলেও আশ্বাস প্রদান ছাড়া কেউই সুরাহা করেনি। এ সেতু পার হয়েই পূর্ব গড়দুয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি ফোরকানিয়া, ড. শহীদুল্লাহ একাডেমী উচ্চ বিদ্যালয়, আলিপুর রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, রাউজান উপজেলার দক্ষিণ গহিরা খান সাহেব আব্দুল করিম উচ্চ বিদ্যালয়, গহিরা ডিগ্রি কলেজ, হাটহাজারী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। যাতায়াত করে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানুষ গড়ার কারিগর কয়েকজন শিক্ষক শিক্ষিকাসহ বিভিন্ন পেশাজীবীর মানুষ। তা ছাড়া সেতু সংলগ্ন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হালদা নদীর ডিম থেকে রেণুফোটানোর গুরুত্বপূর্ণ সরকারি হ্যাচারি মোবারকখীল হ্যাচারি। দীর্ঘদিন ধরে ডিম সংগ্রহে অভিজ্ঞ মো. জামাল উদ্দিন বলেন, প্রতি বছর ডিম সংগ্রহ করে রেণু ফোটানোর কাজ করি এ হ্যাচারিতে। সেতুটি ভেসে গেলে এলাকাবাসীর পাশাপাশি চরম দুর্ভোগে পড়বে ডিম সংগ্রহকারীরা।
গহিরা ডিগ্রি কলেজের এইসএসসি পরীক্ষার্থী মো. নেছার আসিফ সিদ্দিকী, হাটহাজারী সরকারী কলেজের বি এ দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. ফাহাদ, আলিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. মুন্না, দক্ষিণ গহিরা খাঁন সাহেব আব্দুল করিম উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মো. মুরাদ বলেন, আতঙ্ক নিয়েই সেতুটি পার হয়ে যেতে হয়। এখন বর্ষার মৌসুম যে কোন সময় এ সেতু হালদায় ভেঙ্গে পড়তে পারে। আর তাতে স্কুল কলেজে যেতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে তাদের। ড. শহিদুল্লাহ একাডেমী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই সহকারী শিক্ষিকা শারমিন আক্তার ও মনোয়ারা বেগম বলেন, একদিকে আতঙ্ক অপরদিকে বৃষ্টি হলে কর্মস্থল থেকে ফিরতে দুর্ভোগে পড়তে হয়। ঝু্ঁকিপূর্ণ সেতু হওয়ায় রিকশা, সিএনজি অটোরকিশা আসতে চায়না। সরকারিভাবে যদি এটি টেকসই মজবুত আধুনিক সেতু নির্মাণ করা হয় অত্র এলাকার কয়েক হাজার মানুষ স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারবে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মাহবুবুল আলম বলেন, অনেকবার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে অবগত করেছি কিন্তু কাজ হয়নি। আপনাদের লেখনির মাধ্যমে যদি সেতুটি হয় তাহলে এলাকার যথেষ্ট উপকার হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী জয়শ্রী দে বলেন, বিগত সময়ে এ সেতুর জন্য কোন আবেদন করা হয়েছে কিনা দেখা হবে। প্রয়োজনে জনস্বার্থে আবারো উপরে পাঠানো হবে।উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম মশিউজ্জামান বলেন, লিখিত কোন আবেদন পাইনি এ নিয়ে। দুই একদিনের মধ্যে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবগত করা হবে।
