বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

জিয়াউর রহমান দেশের প্রথম মুক্তিযোদ্ধা: আমীর খসরু

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২২ | ১:৫১ অপরাহ্ণ আপডেট: ২৯ মে ২০২২ | ১:৫৭ অপরাহ্ণ
জিয়াউর রহমান দেশের প্রথম মুক্তিযোদ্ধা: আমীর খসরু

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, স্বাধীনতার ঘোষণা এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রথম বিদ্রোহ চট্টগ্রাম থেকেই হয়েছে। জিয়াউর রহমান দেশের প্রথম মুক্তিযোদ্ধা। তিনি পাকিস্তানের সৈন্যদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। পাকিস্তানিদের হত্যা করে স্বাধীনতার ঘোষণা করেন। নেতারা কিন্তু যুদ্ধের অগ্রভাগে থাকে না, ওনি কিন্তু যুদ্ধে অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

তিনি রবিবার (২৯ মে) বিকালে নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ের মাঠে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪১ তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

আমীর খসরু বলেন, বাংলাদেশের বিশাল অংশ মুক্ত করেছেন জিয়াউর রহমান। তিনি দেশের ক্ষমতা নেওয়ার পর বাংলাদেশের জন্য প্রথম একটি দর্শন প্রণয়ন করেন। একটি ভাবনা দিয়েছেন, একটি চিন্তা দিয়েছেন। সেটি হলো বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশি জাতিয়তাবাদের দর্শন দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। অর্থাৎ এই সীমানার মধ্যে যারা আছে সবাই বাংলাদেশি। কেউ চাকমা, কেউ মারমা, কেউ হিন্দু, কেউ খ্রিস্টান-সবাইকে একতাবদ্ধ করার জন্য জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতিয়তাবাদের প্রবর্তন করেন। দেশের উন্নয়নের ভাবনা দিয়েছেন, একদলীয় থেকে বহুদলীয় শাসনের দর্শন চালু করেন তিনি।

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য সমান সুযোগ রেখেছিলেন। কারণ এর আগে ছিল রাষ্ট্র পরিচালিত অর্থনীতি। অথাৎ আওয়ামী পরিচালিত অর্থনীতি। বাকশাল পরিচালিত অর্থনীতি থেকে বের হয়ে সবাই যাতে অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে, সেই দর্শন তিনি প্রণয়ন করেন। আজকে খুনী, স্বৈর সরকার থাকার পরও অর্থনীতি একটি অবস্থান আছে। তার কারণ জিয়াউর রহমান। বিএনপি থাকলে অর্থনীতির গতি আরও বেড়ে যেত। বর্তমানে কিছু লোকের হাতে অর্থনীতি চলে গেছে। এই অর্থনীতিকে ফিরিয়ে আনতে হলে জিয়াউর রহমানের অর্থনীতি দর্শন নিয়ে আসতে হবে।

আলোচনা সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন বলেন, তারেক রহমান দেশে আসলে বিপ্লব হয়ে যাবে। বেগম খালেদা জিয়াকে একবার জন সম্মুখে আসতে দেন, দেখেন দেশে কী হয়। পুলিশের সাবেক আইজি শহিদুল হক বলেছেন- আওয়ামী লীগের জন্য ঠিকমতো কাজ করতে পারেন না। তাদের অত্যাচারে কাজ করা যায় না। পুলিশ ভাইদের বলব, এখনই সময় জনগণের সঙ্গে থাকার। বিপদে পড়লে এরা আপনাদের সাহায্য করবে না।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান এই চট্টগ্রাম থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বে দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ আসেনি। বিশ্বের নেতারা বলেছেন, জিয়াউর রহমানের মতো দেশপ্রেমিক মানুষ হয় না। তারেক রহমান তার যোগ্য উত্তরসূরী। তিনি আসলে দেশের সব মানুষ তার হয়ে কাজ করবেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের একটি বড় স্তম্ভ। এই স্থানের গুরুত্ব দেশের মানুষের কাছে অনেক বেশি। কারণ শহীদ জিয়াউর রহমান এখান থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিলেন। জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা দেশে ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। কেউ চাইলেই এই ইতিহাস পরিবর্তন করতে পারবে না।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্করের পরিচালনায় আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. ছিদ্দিক আহম্মেদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. নসরুল কদির, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ভিপি হারুনুর রশীদ, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম জেলা ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. তমিজ উদ্দীন আহম্মেদ মানিক, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এড, আবদুস সাত্তার, এড. মুফিজুল হক ভূঁইয়া, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এড. এনামুল হক, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব এড. হাসান আলী, সাংবাদিক জাহিদুল করিম কচি বক্তব্য রাখেন।

এদিকে বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয় থেকে আলোচনা সভা শেষে নেতাকর্মীরা বের হওয়ার সময় সভাস্থলে অতর্কিত ভাবে বিষাক্ত গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ। এতে শ্বাসকষ্ঠ ও চামড়া, বুক জ্বালায় অসুস্থ হয়ে পড়েন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, মহানগর বিএনপির আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন, সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর সহ শতাধিক নেতাকর্মী। এসময় উত্তেজনা দেখা দিলে আবুল হাশেম বক্কর পুলিশের সাথে কথা বলে এর প্রতিবাদ জানান। পরে সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares