বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২

এমপি নদভীর ক্যাশিয়ার ছাত্রলীগ নেতা আটক

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ | ৮:১৬ অপরাহ্ণ আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ | ৮:১৬ অপরাহ্ণ
এমপি নদভীর ক্যাশিয়ার ছাত্রলীগ নেতা আটক

সাম্পান ডেস্ক :

সাতকানিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা আওয়ামী লীগ এমপি নদভীর আস্থাভাজন ক্যাশিয়ার মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন কে আটক করেছে সদরঘাট থানা পুলিশের একটি টিম। সে দীর্ঘদিন ধরে সদরঘাট থানা নসু মালুম মসজিদ লেইন বজলুর রহমানের বাসায় আত্মগোপনে ছিলো।

বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১.৩০ মিনিটে সদরঘাটের নসু মালুম মসজিদ লেইন বজলুর রহমানের বাসা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আটক করে সদরঘাট পুলিশ টিম। এ বিশেষ অভিযানের নেতৃত্ব দেন সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রহিম।

জানা গেছে, ছাত্রলীগ নেতা রিয়াদ হোসেন ও রাউজান থানার যুবলীগ নেতা মুরাদ আলম খাওয়া-দাওয়া সহ থাকা বাবদ ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে ঐ বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলো। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে রাউজান থানা যুবলীগ নেতা মুরাদ আলম পালিয়ে গেলেও ছাত্রলীগ নেতা রিয়াদ হোসেন কে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

এ ব্যাপারে সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রহিম বলেন, “অপারেশন ডেভিল হান্ট” এর অংশ হিসেবে আমাদের কার্যক্রম চলমান। আমরা অপরাধীদের ধরতে প্রতিদিন বিশেষ অভিযান করে যাচ্ছি। আমরা বিগত এক সপ্তাহে বেশ কিছু চিহ্নিত অপরাধীকে গ্রেফতার করেছি। গতকালের অভিযান প্রসঙ্গে বলেন- আমরা ৭/৮ দিন আগে গোপনীয় ভাবে সংবাদ পাই যে এমপি নদবির ক্যাশিয়ার খ্যাত সাতকানিয়া উপজেলা ছাত্র লীগের এক নেতা সদরঘাট থানা এলাকায় আত্মগোপন করে আছেন, গোপন তথ্য পাওয়ার পরে থেকে আমরা তার সঠিক লোকেশন বাহির করার চেষ্টা চালিয়ে যায়, তার অবস্থান নিশ্চিত হতে পারলে গতকাল উল্লেখিত স্থান থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসেন।

ওই মামলার এজাহার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত বছরের ৩ ও ৪ আগস্ট সিটি কলেজ থেকে ইসলামিয়া কলেজ মোড় পর্যন্ত বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতা অংশ নেয়। ওই সময় সেখানে আন্দোলকারীদের উপর আগ্নেয়াস্ত্র, ইট, পাথর, লাঠি, হকিস্টিক হাতে হামলা চালানো হয় এবং এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করতে থাকে। আসামীরা ছাত্র জনতার শান্তিপূর্ণ মিছিলের গতিরোধ করে তাদের হাতে থাকা লাঠি, হকিস্টিক দ্বারা এলোপাতাড়ি বেধড়ক মারধর শুরু করে এবং মিছিল ছত্রভঙ্গ করার জন্য মিছিলে অংশগ্রহন কারীদেরকে হত্যার উদ্দেশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র দ্বারা গুলিবর্ষণ, ককটেল ও বিস্ফোরক দ্রব্য দিয়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতংক সৃষ্টি করে এবং ভিকটিম মাহফুজুল ইসলাম’সহ অনেককে সাধারণ, রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম করে।

জানা গেছে, আসামি রিয়াদ সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের কাজী পাড়ার ফরিদের ছেলে। চট্টগ্রামের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনে সামনের সারিতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর ফেসবুক আইডিতে আছে ওই সময়ের নানা লাইভ ভিডিও , এমপি নদভীর পরিবারের সদস্য হয়ে শেখ হাসিনার সাথে একান্ত সাক্ষাতের ছবি পাওয়া যায়। সদরঘাট থানায় গত ৩১ ডিসেম্বর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে দায়ের হওয়া বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় আসামি করা হয়েছে তাকে।

উল্লেখ্য, সদরঘাট থানার বিএনপি-জামায়াত ও চট্টগ্রাম বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের মতে সদরঘাট থানার বর্তমান ওসি আব্দুর রহিম সিএমপি সিটিএসবি থেকে সদরঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ এর দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রতিদিন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সদরঘাট থানা এলাকার সক্রিয় সদস্য অথবা জুলাই গণহত্যায় জড়িত আওয়ামীলীগ ও যুবলীগের নেতাদের গ্রেফতার এবং বিচারের আওতায় নিয়ে আসার জন্য কোর্টে প্রেরণ করেন। সদরঘাট থানার ওসি আব্দুর রহিমের মত সিএমপি ১৬ টি থানা যদি অভিযানে সক্রিয় থাকেন তাহলে এই চট্টগ্রাম নিউমার্কেট মোড়ে ৪ আগষ্টে ছাত্র আন্দোলনের উপর বর্বর হামলাকারীরা আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না।

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares