সাম্পান ডেস্ক
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার পক্ষে কাজ করায় বিপাকে পড়েছেন চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা ও পৌরসভার বেশকিছু নেতাকর্মী। ইতোমধ্যে
পাবর্ত্য চট্টগ্রাম খাগড়াছড়িতে ২টি মামলায় পটিয়ার বেশ কিছু নেতাকর্মীকে ফাঁসানো হয়েছে। আসামীদের মধ্যে রয়েছেন- পটিয়ার ব্যাংকার, চেয়ারম্যান,
পৌরসভার কাউন্সিলর, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। ওই মামলার পর থেকে
অনেকে গ্রেফতারের ভয়ে আতংকে রয়েছেন।
আসামীরা হলেন- পটিয়া উপজেলার
কোলাগাঁও ইউনিয়নের নলান্ধা গ্রামের নাছির মিয়া (৩৪), পটিয়া পৌরসভা আওয়ামী
লীগের সহ-সভাপতি ও স্থানীয় কাউন্সিলর গোফরান রানা (৪৫), গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের বান্দরবান লামা শাখার ম্যানেজার (অপারেশন) মো. মোরশেদ আলম (৩৪), কোলাগাঁও ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বুলবুল হোসেন (৪২), দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আবদুল কাদের (৩৭),কোলাগাঁও নলান্ধা গ্রামের বসিরুল আলম (৬০), উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক নাজমুল সাকের সিদ্দিকী (৩২)।
অপর আরেকটি মামলায় আসামী হয়েছেন
কোলাগাঁও ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বুলবুল হোসেন (৪২),দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আবদুল কাদের (৩৭), দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আবু সাঈদ তানভীর (৩০), কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য আবু সাদাত মো. সায়েম (৪৫) ও উপজেলার শোভনদন্ডী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এহসানুল হক (৫২)। মিথ্যা মামলা দিয়ে দলীয় লোকজনকে
হয়রানি করার বিষয়টি ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরীকে অবহিত করেছেন। মামলার পর থেকে তদন্তকারী কর্মকর্তা বাদীকে খুঁজে পাচ্ছেন না । বিবাদীদের ধারণা বাদী ভুয়া আইডি কার্ড দিয়ে মামলা করেছেন।
মামলা ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের গত ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি
বীরমুক্তিযোদ্ধা মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরীকে নৌকা প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ায় দলীয় লোকজন তাঁর পক্ষে কাজ করেন। দলীয় লোকজনকে অবমূল্যায়নসহ নানা কারণে
এখানকার ৩ বারের সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরীকে বাদ দিয়ে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরীকে দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয় এবং তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। সামশুল হক চৌধুরী পরাজিত
হওয়ার পর তিনি দলীয় লোকজনকে পরিকল্পিতভাবে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে।
গত ৬ মে পাবর্ত্য চট্টগ্রাম খাগড়াছড়ি
সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ও বিচাক দ্রুত বিচার আদালতে আনোয়ার হোসেন নামের একব্যক্তি ফৌজদারী একটি মামলা করেন। মামলা নং-২। ওই মামলায় ১০জনকে আসামী করা হয়। এর মধ্যে পটিয়ার ব্যাংকার, চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর, যুবলীগ
ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী রয়েছে ৮জন। বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি শুনানী শেষে খাগড়াছড়ি সদর থানায় রেকর্ড করার জন্য সংশ্লিষ্ট ওসিকে নির্দেশ দেন। পুলিশ
গত ৮ মে খাগড়াছড়ি সদর থানায় মামলাটি রেকর্ড করেন।
একইভাবে গত ৭ মে মোহাম্মদ নাছির নামের আরেক ব্যক্তি খাগড়াছড়ি আদালতে ফৌজদারী আরেকটি মামলা করেন। ওই মামলাতে আসামী করা হয় পটিয়ার শোভনদন্ডী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এহসানুল হকসহ ৫জন। মামলাটি রেকর্ড করার জন্য থানা পুলিশকে বিজ্ঞ বিচারক নির্দেশ দেন। গত ১২ মে মাটিরাঙ্গা থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়। দুই মামলায় পটিয়ার ১৩জনকে আসামী রয়েছে। যাদেরকে আসামী করা হয়েছে তারা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার পক্ষে ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সামশুল হক চৌধুরীর বিপক্ষে প্রকাশ্যে কাজ করেছিলেন।
পটিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর গোফরান রানা জানিয়েছেন, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার পক্ষে তিনি কাজ করেছিলেন।প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সামশুল হক চৌধুরী পরাজিত হওয়ার পর দলীয় লোকজনকে
মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি শুরু করেছেন। কারণ নির্বাচন চলাকালে ওই প্রার্থীর নানা অনিয়মের বিষয়ে আমরা প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছিলাম। মামলায়
যে তারিখ ও সময় দেখানো হয়েছে ওই দিন তিনি খাগড়াছড়িতে ছিলেন না এবং কোন সময় তিনি খাগড়াছড়ি যায়নি। আজগুবি এ মিথ্যা মামলাটির বিষয়ে আমি দলের শীর্ষ নেতাকর্মীদের অবহিত করেছি। নৌকার পক্ষে যারা কাজ করেছিলেন তাদেরকে ধারাবাহিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সামশুল হক চৌধুরী মামলা দিয়ে যাচ্ছেন। আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
পার্বত্য চট্টগ্রাম খাগড়াছড়ি সদর থানার এসআই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির
জানিয়েছেন, যাদেরকে আসামীরা হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আসামীদের প্রায় সবার বাড়ি পটিয়া উপজেলায়। ইতোমধ্যে তাদের নাম ও ঠিকানা যাচাই বাছাই করার জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। থানা থেকে রিপোর্ট এলেই পরবর্তীতে কার্যক্রম শুরু করা হবে।
