বান্দরবান প্রতিনিধি :
বান্দরবানের সাথে রুমা-থানচির সড়ক যোগাযোগ বন্ধ, নেই বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক
বান্দরবানে ঘূর্ণিঝড় ‘রিমাল’ এর প্রভাবে ভারি বর্ষণের কারনে বেইলি ব্রিজের নিচে মাটি সড়ে গিয়ে বান্দরবান থেকে রুমা-থানচি যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
এদিকে ২০ ঘন্টা পর বান্দরবান জেলা শহরে আজ মঙ্গলবার সকালে বিদ্যুৎ সরবরাহ আংশিক চালু হয়। এছাড় লামা, আলীকদম, রুমা, থানচি এবং রোয়াংছড়ি উপজেলায় এখনো বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হয়নি। তাই এলাকাগুলো বিদ্যুৎবিহীন হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘক্ষণ মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ থাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
এদিকে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে পাহাড় ধসে প্রাণহানির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলো ছেড়ে লোকজনদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও পৌরসভার পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।
অপরদিকে জেলার অভ্যন্তরিন রুমা-রোয়াংছড়ি, থানচি-আলীকদম, বান্দরবান-লামা-সূয়ালক, বান্দরবান-বাঙ্গালহালিয়া-রাঙামাটি, ফাসিয়াখালী-লামা, ফাইতং-লামা গজালিয়া সড়কগুলো ছোটখাটো পাহাড় ধসে সড়কে মাটি জমে কাদা মাটিতে পিচ্ছিল বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

থানচি বাস মালিক সমিতির লাইনম্যান সাহাব উদ্দীন জানান, ব্রিজের একপাশে গাইড ওয়াল ভেঙে গিয়েছে অন্য পাশ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় যানবাহন চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে ব্রিজটি। ফলে দুর্ঘটনা এড়াতে রুমা-থানচিতে সব প্রকার ভারি যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
বান্দরবান সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোসলেহ্ উদ্দীন চৌধুরী বলেন, ভারী বৃষ্টির কারণে ব্রিজ দেবে যাওয়ার খবর পেয়েছি। এই সড়কটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২০ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন হওয়ার আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে এই জনদুর্ভোগ লাগব হবে।
বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শাহ্ মোজাহিদ উদ্দিন জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘রিমাল’’ এর প্রভাবে জেলায় তিনদিন ধরেই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। পাহাড় ধসে প্রাণহানির আশঙ্কায় পাহাড়ের পাদদেশে ও ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলো ছেড়ে লোকজনদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। এছাড়াও ঘূর্ণিঝড় রিমালের কারণে এখনো বান্দরবানে বড় কোনো ধরণের ক্ষয়ক্ষতির সংবাদ পাওয়া যায়নি। তবে ব্রিজ দেবে যাওয়ার খবর পেয়েছি, আমরা সড়ক বিভাগের সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করছি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে দেবে যাওয়া ব্রিজটি সংস্কার করে যান চলাচল স্বাভাবিক করা যাবে।
