বান্দরবান প্রতিনিধি
বান্দরবানে রুমা ও থানচিতে ব্যাংক ডাকাতি, মসজিদে হামলা, টাকা-অস্ত্র লুটের ঘটনায় কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফে’র) নারী উইংয়ের একজন সমন্বয়ককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১৫।
আজ শুক্রবার (১৭ মে) সকালে ৬ টার দিকে বান্দরবানসদর উপজেলার লাইমী পাড়া থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার নাম আকিম বম (৪২)। সে একই এলাকার সিয়াম থং বমের মেয়ে।
শুক্রবার (১৭ মে) বিকেলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব-১৫ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, লাইমী পাড়া থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৫।
শুক্রবার সন্ধায় বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে এই বিষয়ে এক প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।
র্যাব-১৫-এর বান্দরবান ক্যাম্প ইনচার্জ স্কোয়াড্রন লিডার তৌহিদুল মুবিন খান প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, যৌথ বাহিনীর অভিযানে এর আগে অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা গ্রেপ্তার হলেও নারী ইউনিটের কোনো সদস্যকে এই প্রথম গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মধ্য দিয়ে কেএনএর নারী উইং সম্পর্কে তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
গোয়েন্দা সূত্রে আকিম বমের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে র্যাব-১৫-এর সদস্যরা রাত ৩টায় লাইমীপাড়া ঘিরে ফেলেন। প্রায় তিন ঘণ্টা পর কোনো রকম সংঘাত ছাড়াই তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন তারা। গ্রেপ্তারকৃত আকিম বম কুকিচিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) সামরিক শাখা কেএনএর নারী ইউনিটের একজন সমন্বয়ক।
তিনি আরও বলেন, ২০২৩ সালের কান্না রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলে অধ্যয়নকালে বন্ধু মাইকেলের কথায় প্রভাবিত হয়ে ট্রেনিংয়ে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং রোয়াংছড়ির গহিন পাহাড়ি জঙ্গলে কেডিওন নামে একটি ট্রেনিং সেন্টারে পৌঁছান। যেখানে আরও ৫০ জনের মত নারী সদস্য প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল। ট্রেনিং শেষে বান্দরবান সদর ও রোয়াংছড়ি এলাকায় সদস্য সংগ্রহের কাজ করতেন আকিম বম।
এপর্যন্ত মোট ৮৫ কেএনএফ সদস্য ও একজন চাঁদের গাড়ীর চালকসহ মোট ৮৬ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৫ জন নারী রয়েছেন।
বান্দরবানের রুমা ও থানচিতে প্রকাশ্যে ব্যাংক লুটের পর বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ ও সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ এর বিভিন্ন ধারায় এ পর্যন্ত রুমাতে পাঁচটি ও থানচিতে চারটি মোট ৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বান্দরবানে গত ২ ও ৩ এপ্রিল রুমা ও থানচিতে ব্যাংক ডাকাতি, মসজিদে হামলা, টাকা-অস্ত্র লুটের ঘটনায় মামলায় অভিযুক্ত ‘কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)’র সংশ্লিষ্টতা থাকার অভিযোগে সমগ্র বান্দরবান জুড়ে যৌথ বাহিনীর চিরুনি অভিযান চলমান রয়েছে।
