বান্দরবান প্রতিনিধি
বান্দরবানে রুমা ও থানচিতে ব্যাংক ডাকাতি, মসজিদে হামলা, টাকা-অস্ত্র লুটের ঘটনায় মামলায় অভিযুক্ত ‘কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)’ সংশ্লিষ্টতায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের ২ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
আটককৃতরা হলেন- রুমার মুয়ালপী পাড়ার জুয়ামত্লিং বমের ছেলে লাল জার ঙাম বম (৩৮), ইডেন পাড়ার লালচৌও থাং বমের ছেলে তনক্লিং বম (৩৩)।
রোববার (২১ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় দুই আসামিকে বান্দরবান চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নাজমুল হোসাইনের এজলাসে হাজির করা হয়। বান্দরবানের কোর্ট ইন্সপেক্টর একে ফজলুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বান্দরবান আদালতের (জিআরও) বিশ্বজিৎ সিংহ বলেন, সকালে রুমার বিভিন্ন এলাকায় যৌথ বাহিনীর পৃথক অভিযানে কেএনএফ সদস্য সন্দেহে ২জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাদেরকে আদালতে আনা হলে আদালতের বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সেই সময় কোর্ট ইন্সপেক্টর একে ফজলুল হক পুলিশ আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিন করে রিমান্ড আবেদন করে, একই সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কাজী মাহতুল হোসেন যত্ন জামিন আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে দুদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ইতিপূর্বে গত বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) ‘কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)’ সংশ্লিষ্টতায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা ৫৭ জনকে আদালতে তোলা হয়েছে। এদের মধ্যে ৫২ জনের চারদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রিমান্ডে পাঠানো ৫২ জনের মধ্যে ১৭ জন নারী। শুধু এক নারী আসামি গর্ভবতী হওয়ায় তাকে জেল গেটে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা যাবে বলা হয়েছে।
বান্দরবানে গত ২ ও ৩ এপ্রিল রুমা ও থানচিতে ব্যাংক ডাকাতি, মসজিদে হামলা, টাকা-অস্ত্র লুটের ঘটনায় মামলায় অভিযুক্ত ‘কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)’র সংশ্লিষ্টতা থাকার অভিযোগে সমগ্র বান্দরবান জুড়ে যৌথ বাহিনীর চিরুনি অভিযান চলমান রয়েছে।
গত ৮ এপ্রিল যৌথবাহিনী বিশেষ অভিযান চালিয়ে রুমা উপজেলার বেথেলপাড়া থেকে ১৮ নারীসহ ৪৯ জনকে গ্রেপ্তার করে। এপর্যন্ত মোট ৬৫ কেএনএফ সদস্য ও একজন চাঁদের গাড়ীর চালকসহ মোট ৬৬ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে ২০ জন নারী রয়েছেন।
বান্দরবানের রুমা ও থানচিতে প্রকাশ্যে ব্যাংক লুটের পর বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ ও সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ এর বিভিন্ন ধারায় এ পর্যন্ত রুমাতে পাঁচটি ও থানচিতে চারটি মোট ৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
