বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

মঙ্গল কামনায় বান্দরবানে সাঙ্গুতে নদী পূজা

প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৪ | ৪:১৬ অপরাহ্ণ আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০২৪ | ৪:১৬ অপরাহ্ণ
মঙ্গল কামনায় বান্দরবানে সাঙ্গুতে নদী পূজা

বান্দরবান প্রতিনিধি 

অশুভ শক্তিকে প্রতিরোধ করে সবার সুখ-শান্তি আর মঙ্গল কামনায় পার্বত্য জেলা বান্দরবানে পালিত হচ্ছে নদী পূজা। প্রতিবছর বৈশাখ মাসে মারমা সম্প্রদায়ের সংগ্রাইং উৎসব এর পরে বান্দরবান রাজপরিবারের পক্ষ থেকে সাঙ্গু নদীতে, এই নদী পূজা উদযাপন করা হয়ে থাকে। আর এর মাধ্যমে পুরাতন বছরকে বিদায় ও নতুনের আহ্বান জানান বৌদ্ধধর্মাবলম্বীরা।

শনিবার (২০ এপ্রিল) সকালে বান্দরবান বোমাং রাজবাড়ী পরিবারের আয়োজনে বর্ণাঢ্য ধর্মীয় শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি রাজবাড়ী প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উজানী পাড়া সাঙ্গু নদীর তীরে সকলে সমবেত হয়।

শোভাযাত্রায় বান্দরবানের বোমাং সার্কেলের চীফ রাজপুত্র চসিংপ্রু বনি নেতৃত্বের রাজপরিবারের সদস্য, বিভিন্ন মৌজার হেডম্যান ও কারবারি (পাড়া প্রধান) সহ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ও অনুসারীরা এতে অংশ নেয়।

সেই সময় সাঙ্গু নদীর তীরে বটগাছ ও নদীর পানিতে পূজা করেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। তখন মিষ্টি জাতীয় খাবার সহ বিভিন্ন রকমের ফল উৎসর্গ করার পাশাপাশি মোমবাতি ও ধুপ জ্বালিয়ে পূজারীরা দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করেন।  নদীর ধারে বাঁশের তৈরি মাচাংয়ের ওপরে ফুল বিসর্জন করে দেবতার উদ্দেশে পূজা করা হয়। সকলে নতুন বছরে পৃথিবীতে সুখে-শান্তিতে বসবাসের জন্য বিশেষ প্রার্থনায় মিলিত হন।

জনশ্রুতি আছে যে, পাহাড়ের মানুষজন এক সময় প্রকৃতি পূজারি ছিলো। তারা ধারনা করতো  অরন্যে ঘেরা সবুজ  বান্দরবানের পাহাড় পরিবেশে অশুভ শক্তি প্রভাব বিস্তার হয়। এতে পাহাড়ের মানুষজন   বিভিন্ন সময়ে নানা প্রকার রোগব্যাধিতে, বিপদ আপদে আক্রান্ত  হতো। তাই সেই সময় থেকে পাহাড়ের মানুষজন বিশ্বাস করে আসছে অশুভ শক্তির হাত থেকে রক্ষা পেতে নদী পূজা সবার জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে। আর তাই প্রতিবছরই বৈশাখ মাসে মারমা সম্প্রদায়ের নববর্ষ ও সাংগ্রাইং উৎসব শেষে বান্দরবানে বোমাং রাজপরিবারের পক্ষ থেকে এই নদী পূজার আয়োজন করা হয়। আর বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা সবাই এই আয়োজনে অংশ নিতে প্রতিবছর বান্দরবানে সাঙ্গু নদীতে সমবেত হয়।

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares