আমিনুল ইসলাম খন্দকার
এবার ঈদ উৎসবের পরপরই পহেলা বৈশাখ দরজায় কড়া নাড়ছে। ঈদের একদিন পরেই আজ থেকে নানান আনুষ্ঠানিকতায় শুরু হতে যাচ্ছে পার্বত্য এলাকায় বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব বৈসাবি।
ঈদ ও পহেলা বৈশাখ কে কেন্দ্র করে পার্বত্য এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠিদের উৎসব উৎযাপন উপলক্ষে বেশ কয়েকদিনের সরকারি ছুটি যোগ হয়েছে। প্রতিবছর এমন ছুটিতে বান্দরবানের বিভিন্ন হোটেল, মোটেল ও রির্সোটগুলো বুকিং হতো ১০০ শতাংশ।
ঈদের ছুটি আর নৃগোষ্ঠীদের বর্ষবরণকে ঘিরে পাহাড়ি কন্যা হিসেবে পরিচিত পার্বত্য জেলা বান্দরবানে সবসময় পর্যটকদের আনাগোনা ও পাহাড়ে মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে থাকলেও এবার যেন তার সম্পূর্ণ ব্যাতিক্রম।
বান্দরবানে বেড়াতে আসা পর্যটকরা সকল বুকিং বাতিল করে দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে দীর্ঘ এই ছুটিতে পর্যটকদের ভ্রমনের জন্য নেয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা।
বান্দরবান আবাসিক হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, রুমা ও থানচির ব্যাংক ডাকাতির ঘটনা এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযানকে কেন্দ্র করে সকল হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট বুকিং বাতিল হচ্ছে। যদিও বা ঘটনাস্থল শহর এলাকা থেকে অনেক দূরে। এখানে তেমন কোনো প্রভাব নেই। শহর থেকে রুমা ৪৭ কিলোমিটার দূরে আর থানচির দূরত্ব ৮৫ কিলোমিটার।
দীর্ঘদিন ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা ও পরবর্তীতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে লম্বা সময় ধরে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা, ফলে দীর্ঘ সময় পর পর্যটন ব্যবসায় লাভের আশা করছিলেন তারা।
হিল ভিউ আবাসিক হোটেলের ব্যবস্থাপক লিমন সরকার জানান, এবার ঈদ এবং বৈসাবি ঘিরে কোনো বুকিং নেই। বুকিং যা ছিল সবকটাই বাতিল হয়েছে।
বান্দরবানের নীলাচল রোডের প্রবেশ মুখে অবস্থিত আবাসিক হোটেল নীলাদ্রির ব্যাবস্থাপক ইউনুস বিন কবির বলেন, আমরা এর আগে ঈদ পরবর্তী সময়ে কোন ছাড় না দিয়ে শতভাগ রুম বুকিং কনফার্ম করতাম। এবার সর্বোচ্চ ছাড় দিয়েও পর্যটক পাচ্ছি না। ভয়ে আতঙ্কে সকলে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।
বান্দরবানের চাঁদের গাড়ীর ড্রাইভার মিঠু সিকদার বলেন, পুরো রমজান মাস ধার কর্য করে চলেছি, ভেবেছিলাম ঈদের পর পর্যটক আসলে বাড়তি আয় রোজকার হবে। ঋণ শোধ করে ভালো চলতে পারবো। সবকিছু কেমন যেন হয়ে গেলো। আতঙ্কে কেউ পাহাড়ে বেড়াতে আসছে না।
বান্দরবান জীপ মাইক্রোবাস মালিক সময়বায় সমিতির লাইন পরিচালক মো.কামাল জানান, পর্যটকদের সেবার জন্য বান্দরবানে প্রায় ৪ শতাধিক গাড়ী সার্বক্ষণিক প্রস্তুুত থাকতো, তবে এবার বুকিং কম, আশানুরুপ ব্যবসা হবে না।
হোটেল থেকে বুকিং বাতিল করা একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শামিমুল ইসলামকে ফোন দিয়ে কারন জানত চাইলে তিনি বলেন, সবার আগে নিরাপত্তা। আমরা পরিবার নিয়ে নিরাপদ বোধ করছি না। তাই বুকিং বাতিল করেছি। বান্দরবান খুবই সুন্দর যায়গা, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে, সুযোগ পেলে পরিবার নিয়ে ঘুরতে যাবো।
বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শাহ মোজাহিদ উদ্দিন জানান, বান্দরবানের সাম্প্রতিক বিষয়গুলো নিয়ে বড় ধরনের আতংকের কিছুই নেই। দীর্ঘ ছুটিতে বান্দরবানে পর্যটকরা অনায়াসে আসতে পারবে এবং ভ্রমন করতে পারবে। রুমা এবং থানচি ছাড়া বান্দরবানের অন্যান্য উপজেলাগুলোতে অসংখ্য পর্যটনকেন্দ্র রয়েছে এবং সেখানে ভ্রমন করতে আমরা পর্যটকদের উৎসাহিত করছি।
ট্যুরিস্ট পুলিশের বান্দরবান জোনের পুলিশ সুপার মঞ্জুর মোরশেদ বলেন, আবাসিক হোটেল-মোটেলে খবর নিয়েছি, সবাই একই রকম কথা বলছে। কোনো বুকিং নেই। বুকিং যা ছিল তাও বাতিল হয়ে যাচ্ছে। এবার কোনো পর্যটক থাকবে বলে মনে হয় না। এবার কেবল স্থানীয় লোকজনই শহরে কয়েকটি পর্যটন স্পটে ঘুরে বেড়াবে।
