নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগে শীগ্রই আসছে নতুন কমিটি। রাজপথের আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে জেল-জুলুমের স্বীকার, সাংগঠনিক দক্ষতা ও কর্মী বান্ধব নেতাদের এই কমিটিতে মূল্যায়ন করার আভাস দিয়েছে দলীয় হাইকমান্ড। যে কারণে নতুন কমিটিতে পদপ্রত্যাশীদের আলোচনায় শীর্ষে রয়েছেন বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির বাইরে থাকা এবং বিভিন্ন কলেজ ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দেয়া ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ত্যাগী সাবেক ডজন খানেক নেতা । এরমধ্যে কর্মীদের কাছে আস্হা ও ভালোবাসা এগিয়ে আছেন এক সময়ে চট্টগ্রাম কমার্স কলেজের দাপুটে ছাত্রলীগের সভাপতি ও চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের স্টিয়ারিং কমিটির অন্যতম সদস্য দিদারুল আলম দিদার। কারা নির্যাতিত সাবেক এই ছাত্রনেতা আসন্ন মহানগর কমিটিতে সভাপতি প্রার্থী পদে প্রার্থী হয়েছেন।
জানা যায়, দলের দুঃসময়ে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন দিদারুল আলম দিদার।দলীয় সংশ্লিষ্ট ও তৃণমূল নেতৃবৃন্দরা জানান, দিদারুল আলম দিদার দলের নিবেদিত প্রাণ। ছাত্র এবং যুবলীগের কর্মীবান্ধব সংগঠক। তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন ছাত্রলীগের একাধিক কমিটিতে। ছিলেন চট্টগ্রাম কমার্স কলেজের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। ২০০১ সালে হন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের স্টিয়ারিং কমিটি সদস্য, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সহ সম্পাদক।
সাবেক ছাত্রনেতা দিদারুল আলম দিদার সুনামের সহিত পলোগ্রাউন্ড উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে কয়েক দফা দায়িত্ব পালন করেন। তিনি চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের আজীবন দাতা সদস্য। এছাড়াও তিনি আরও একাধিক সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
এদিকে আসন্ন কমিটিতে সভাপতি প্রার্থী দিদারুল আলম দিদার বলেন, মহানগর যুবলীগের যে অচলাবস্থা এটাকে গতিশীল করতে হলে নতুন নেতৃত্ব দরকার। যুবলীগের যারা দায়িত্বে ছিলেন তাদের ব্যর্থতার দায় নিতে হবে। ব্যর্থতার দায় স্বীকার না করে যারা আবার যুবলীগের পদ পদবী নেয়ার জন্য তৎপর তাদের উচিত যুবলীগ ছেড়ে আওয়ামী লীগে জায়গা খুঁজা। তারা যেহেতু যুবলীগের জন্য কিছু করতে পারেনি তারা আবার দায়িত্বে আসলে তৃণমূল নেতা কর্মীরা মেনে নিবে না।
যুবলীগের সভাপতি অথবা সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা পরিবার থেকে হওয়া উচিত অভিমত ব্যক্ত করে তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে অপামর জনতা জীবনের মায়া ত্যাগ করে ১৯৭১ সালে এদেশ স্বাধীন করেছেন। শহীদের স্বপ্ন ছিলো বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে উঠুক।
বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে ও জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে এদেশ মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবার সদাজাগ্রত। তাই মূল নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের মানুষ হওয়া চাই। আমার পিতা মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক। বঙ্গবন্ধু উনাকে বলে ডাকতেন তিনিও চট্টগ্রামের মানুষের কাছে চাচা খালেক নামে খ্যাত আমি তারই সন্তান।
যুবলীগের দায়িত্ব পেলে যুবলীগকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে এই মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বলেন, দলকে সুসংগঠিত করাসহ নেতৃত্ব বিকাশের পাশাপাশি যুবলীগকে একটি কর্মসংস্থান তৈরীতে সহায়ক ও বেকারমুক্ত যুবলীগ করার জন্য কাজ করে যাবো।
তিনি আরও বলেন, আমি দুঃসময় কাজ করার লোক, আমি আ জ ম নাছির উদ্দিনের নেতৃত্বে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কিন্তু মাঠে দলীয় আন্দোলন সংগ্রামের কর্মসূচি পালন করেছি। সেদিন কম সংখ্যক কর্মীরাই কিন্তু মাঠে ছিল। তখন দুঃসময়ে আমরা অনেক হামলা-মামলার শিকার হয়েছি, নির্যাতনের শিকার হয়েছি। তাই নগরব্যাপী সাংগঠনিকভাবে যাদের অবস্থান রয়েছে, প্রত্যেকটি ওয়ার্ড পর্যায়ে যারা সংগঠনকে মজবুত করতে পারবে, নগর যুবলীগে এধরণের নেতৃত্বই আশা করছি।
প্রসঙ্গত, নয় বছর আগে ২০১৩ সালে চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের ১০১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি দেয়া হয়। কমিটির আহ্বায়ক করা হয় মহিউদ্দিন বাচ্চুকে। চারজনকে যুগ্ম আহ্বায়করা হলেন- দেলোয়ার হোসেন খোকা, ফরিদ মাহমুদ, মাহাবুবুল হক সুমন ও দিদারুল আলম।
