নিজস্ব প্রতিবেদক
সোমালিয়ার জলদস্যুদের হাতে জিম্মি বাংলাদেশের কবির গ্রুপের জাহাজ ‘এমভি আব্দুল্লাহ’র অদূরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেভাল ফোর্সের একটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে।যুদ্ধজাহাজ থেকে হেলিকপ্টার গিয়ে জিম্মি জাহাজের উপর চক্করও দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে ইইউ নেভাল ফোর্সের এক্স হ্যান্ডলে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
পোস্ট করা একটি ভিডিও এবং তিনটি স্থিরচিত্রে দেখা যায়, ইইউ নেভাল ফোর্সের অপারেশন আটলান্টার মোতায়েন করা যুদ্ধজাহাজটি বাংলাদেশের জিম্মি জাহাজের কয়েক নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছে। যুদ্ধজাহাজ থেকে একটি হেলিকপ্টার জিম্মি বাংলাদেশি জাহাজের ওপর দিয়ে উড়ে যেতে দেখা যায়। একটি ছবিতে দেখা যায়, ইইউ নেভাল ফোর্সের দুজন সদস্য যুদ্ধজাহাজটি থেকে এমভি আব্দুল্লাহর দিকে তাকিয়ে আছেন।
তবে ইইউ নেভাল ফোর্স যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করলেও কোনো অভিযান চালানো হয়নি।এর আগে ইইউ নেভাল ফোর্স জিম্মি জাহাজটি উদ্ধারে অভিযানের কথা জানালেও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সম্মতি দেওয়া হয়নি। মূলত নাবিকদের নিরাপদ ফেরাতে কোনো সামরিক অভিযানে সম্মতি দিচ্ছে না মালিকপক্ষ। তারা বলছে, নাবিকদের নিরাপদে ফেরানোই তাদের প্রথম অগ্রাধিকার।
জানা যায়, বাংলাদেশ সরকার ও মালিকপক্ষ নাবিকদের নিরাপত্তার শঙ্কায় কোন ধরনের সহিংস উদ্ধার অভিযানে আপত্তি জানিয়েছে।দস্যুরাও কোন অভিযান না চালানোর বিষয়ে হুশিয়ারি দিয়েছেন।যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন ও অপারেশন আটলান্টার খবর আসার পরই দস্যুরা জাহাজটির মালিকপক্ষের সঙ্গে প্রথমবার যোগাযোগ করেছে। মালিকপক্ষ জাহাজসহ নাবিকদের ছাড়িয়ে আনতে দস্যুদের সঙ্গে সমঝোতার কাজ এগিয়ে নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
নাবিকদের উদ্ধারে আন্তর্জাতিক নৌবাহিনীর অভিযানে মালিকপক্ষের এই আপত্তির বিষয়টি বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে। রয়টার্স বলছে, ‘ভারতীয় কমান্ডোরা জলদস্যুদের নিয়ন্ত্রণে থাকা মাল্টার পতাকাবাহী জাহাজ এমভি রুয়েনে অভিযান চালিয়ে ১৭ ক্রুকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করার পর এমভি আবদুল্লাহতেও অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে এই ধরনের অভিযানের প্রস্তাবে বাংলাদেশের সরকার রাজি হয়নি। জাহাজটির মালিক কোম্পানি কেএসআরএম গ্রুপও এই ধরনের অভিযানে রাজি নয়।’
কবির গ্রুপের একটি সূত্র জানা যায়, এমভি আবদুল্লাহ এবং জিম্মি নাবিকদের জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্ত করতে সোমালি পুলিশ এবং আন্তর্জাতিক নৌবাহিনী অভিযানের প্রস্তুতি খবর জিম্মিকারী সোমালিয়াতর দস্যুদের নজরেও এসেছে।এটা নিয়ে অনেকটা চাপে পড়েই বুধবার দুপুরে তারা তড়িঘড়ি করে মালিকপক্ষের সাথে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে যোগাযোগ করেছে।তারা জানিয়েছে, যথাযথ প্রক্রিয়ায় নাবিক ও জাহাজ ফেরত দেয়া হবে।এক্ষেত্রে কোন ধরণের সশস্ত্র অভিযানে না যেতে তারা হুশিয়ারি দিয়েছেন।
জাহাজের মালিকপক্ষ কবির গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান কেএসআরএম এর মিডিয়া এডভাইজার মিজানুল ইসলাম দ্যা নিউজকে বলেন,’ আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছি,আমরা কোন সশস্ত্র অভিযান চাইনা।আমাদের নাবিকদের জীবন শঙ্কায় পড়বে এমন কিছু করতে আমরা ‘না’ করে দিয়েছি।বাংলাদেশ সরকারও তাই জানিয়েছে। আমরা আলোচনার মাধ্যমে নাবিকদেরকে ফেরত আনতে চাই।
