আব্দুল হান্নান চৌধুরী
আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের নফল ইবাদত রাতের নামাজ তাহাজ্জুদ। মর্যাদা ও ফজিলতের দিক থেকে ফরজ নামাজের পরই তাহাজ্জুদের অবস্থান। নবিজী বলেছেন, ‘ফরজ নামাজের পর সর্বশ্রেষ্ঠ নামাজ হলো রাতের (তাহাজ্জুদের) নামাজ।’
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন প্রিয় নবীজি (সা.)-এর উদ্দেশ্যে কুরআন কারিমে বলেন,
‘এবং রাত্রির কিছু অংশ তাহাজ্জুত কায়েম করো, ইহা তোমার এক অতিরিক্ত কর্তব্য। আশা করা যায়, তোমার প্রতিপালক তোমাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন প্রশংসিত স্থানে—মাকামে মাহমুদে।’
(সুরা- ইসরা, আয়াত: ৭৯)।
রাতের ইবাদত প্রসঙ্গে কোরআন মাজিদে মহান আল্লাহ রাসূল (সঃ) কে সম্বোধন করে আরও বলেন, ‘হে কম্বলাবৃত! রাতে দণ্ডায়মান হও কিছু অংশ বাদ দিয়ে; অর্ধরাত্রি অথবা তার চেয়ে কিছু কম অথবা তার চেয়ে বেশি এবং কোরআন তিলাওয়াত করো সুবিন্যস্তভাবে ও স্পষ্টভাবে। আমি তোমার প্রতি অবতীর্ণ করেছি গুরুত্বপূর্ণ বাণী। নিশ্চয়ই ইবাদতের জন্য রাত্রিতে ওঠা প্রবৃত্তি দমনে সহায়ক এবং স্পষ্ট উচ্চারণের অনুকূল। নিশ্চয়ই দিবাভাগে রয়েছে তোমার দীর্ঘ কর্মব্যস্ততা। তুমি নিজ পালনকর্তার নাম স্মরণ করো এবং একাগ্রচিত্তে তাতে নিমগ্ন হও।’
(সুরা-মুজ্জাম্মিল, আয়াত: ১-৮)।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, ‘হে বস্ত্রাবৃত! ওঠো, সতর্ক করো, আপন পালনকর্তার মাহাত্ম্য ঘোষণা করো, স্বীয় পোশাক পবিত্র করো এবং অপবিত্রতা থেকে দূরে থাকো। অন্যকে কিছু দান করে অধিক প্রতিদান আশা করবে না। আর তোমার পালনকর্তার উদ্দেশে ধৈর্য ধারণ করো।’
(সুরা-মুদ্দাচ্ছির, আয়াত: ১-৭)।
রাতের নামাজ তাহাজ্জুদের ঘোষক স্বয়ং আল্লাহ। রাতের শেষাংশে মহান রব দুনিয়ার আকাশে নেমে মানুষকে নামাজের জন্য, তাঁকে ডাকার জন্য, ক্ষমা প্রার্থনার জন্য আহ্বান করেন। হাদিসে এসেছে-
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন এবং বলেন, ‘যে আমাকে ডাকবে আমি তার ডাকে সাড়া দেবো। যে আমার কাছে কিছু প্রার্থনা করবে আমি তাকে তা দান করব। যে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে আমি তাকে ক্ষমা করে দেব।’ (বুখারি, মুসলিম)
রমজান মাসে তাহাজ্জুদ নামাজ বান্দার জন্য এক নেয়ামত।রমজান মাস হচ্ছে ক্ষমা প্রার্থনার মাস।সেহেরি খাওয়ার জন্য সবাইকে মাধ্যরাতে ঘুম থেকে জাগতে হয়।তাহাজ্জুদ পড়ার জন্য এটাই সুবর্ণ সুযোগ। তাই একটু আগে উঠে অন্তত দশ মিনিট সময় ব্যয় করে চার রাকাত নফল নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারি।আল্লাহ আমাদের সবাইকে তৌফিক দান করুন।
লেখক : ইসলামী গবেষক
